July 22, 2017

কীর্তনখোলার ভাঙ্গন ঠেকাতে স্থানীয় জনগণের উদ্যোগ

--- ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

kritonkhola

খান রুবেল ॥  কীর্তনখোলা নদীর ভাঙ্গনের গ্রাস থেকে সদর উপজেলার চরকাউয়া এলাকায় রক্ষায় বাধ নির্মানের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে স্থানীয় জনগন। রাজনৈতীক ব্যক্তি এবং নিজেদের মধ্যে থেকে চাঁদা তুলে আজ সকাল থেকে বাশ এবং ইট ফেলে ভাঙ্গন ঠেকানোর কার্যক্রম শুরু করবে তারা।

এদিকে চরকাউয়ার অব্যাহত ভাঙ্গন রক্ষার্থে জরুরী ব্যবস্থা গ্রহন করার কথা জানিয়েছেন বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। এলাকাটির নদী গর্ভে বিলিন হওয়া ৯০ মিটার জায়গায় জরুরী বাধ নির্মানের জন্য ৪০ লক্ষ টাকার ষ্টিমেট তৈরী করেছেন তারা। গতকাল ষ্টিমেট তৈরী করে ঢাকায় প্রেরন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন দপ্তরটির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জহির উদ্দিন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বরাদ্ধ পেয়ে জরুরী বাধ নির্মান কাজ শুরু করতে পারবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

অপরদিকে ভাঙ্গন শুরুর পর থেকে গত তিন দিন ধরে চরকাউয়া ফেরী চলাচল বন্ধ রয়েছে। এক পাশের পন্টুন ও গ্যাংওয়ে সরিয়ে নেয়ায় নদীর দুই প্রান্তে শত শত যানবাহন আটকে থাকতে দেখা গেছে।

সূত্র মতে, গত শুক্রবার বিকেল ৪ টা থেকে শুরু হয় বরিশাল নগর সংলগ্ন সদর উপজেলার চরকাউয়া বাজারের উত্তোর পাশে কীর্তনখোলা নদীর ভাঙ্গন। সেই থেকে শুরু করে গতকাল পর্যন্ত থেমে থেমে ভাঙ্গনের ফলে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বসত বাড়ি, পুকুরের হাজার হাজার টাকার মাছ এবং বিভিন্ন প্রজাতির বড় আকারের গাছ। আর এতে করে বাঙ্গন কবলিত মানুষেল ক্ষয়-ক্ষতি লক্ষ লক্ষ টাকার মালামাল। কেউ কেউ ঘর এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনিয় মালামাল রক্ষা করতে পারলেও পারেনি শেষ সম্বল ভিটা ও প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে ভাঙ্গনের তীব্রতা রোধে ওই দিন চরকাউয়া ঘাটের পন্টুন ও গ্যাংওয়ে অন্যত্র সরিয়ে রাখার পাশাপাশি বন্ধ করে দেয়া হয় ফেরি চলাচল। ফলে গত তিন দিন ধরে ফেরী চলাচল বন্ধ থাকায় বরিশাল ও ভোলা রুটের যানবাহন পাড়া পার বন্ধ রয়েছে। এতে নদীর দুই প্রান্তে শত শত যানবাহন আটকা পড়েছে। তবে কোন সমস্যা না হলে ফেরী চলাচল চালু করার জন্য নির্দেশ করেছেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. তালুকদার মোঃ ইউনুস এমপি।

অপরদিকে গত তিন দিন ধরে ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলেও শুধু মাত্র আশ্বাসের বানিই শুনিয়ে যাচ্ছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ভাঙ্গন রোধে এখন পর্যন্ত জরুরী কোন পদক্ষেপ গ্রহন করতে পারেনি তারা। ফলে এবার নিজেরাই ভাঙ্গন রোধে মাঠে নেমে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্থ সহ স্থানীয় জনগন। তারা বিভিন্ন রাজনৈতীক ও স্ব-হৃদয়বাদ ব্যক্তি সহ সকলের সর্বাতœক সহযোগিতায় চাঁদা তুলে ভাঙ্গলি এরাকায় বাধ নির্মান কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। চরকাউয়া বাস মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক নূরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, চাঁদা তুলে ভাঙ্গন স্থলে বাশের বেড়া দিয়ে এবং তার পাশে ইট ফেলে ভাঙ্গন রক্ষার চেষ্টা চালাবেন। আজ সকাল থেকেই এ কার্যক্রম শুরু হবে। এ নিয়ে গতকাল রাতে স্থানীয়দের নিয়ে একটি মিটিংও হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জহির উদ্দিন বলেন, সকালে তিনি এবং এমপি তালুকদার মোঃ ইউনুস ভাঙ্গলি এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় স্থানীয়দের আপাতত ভাঙ্গন রক্ষায় নিজস্ব ভাবে উদ্যোগ নেয়ার জন্য বলেছেন। তাছাড়া ভাঙ্গনে নদী গর্ভে বিলিন হওয়া ৯০ মিটার জায়গায় জরুরী বিক্তিতে বাধ নির্মানের জন্য ৪০ লক্ষ টাকার ষ্টিমেট ঢাকায় প্রেরন করা হয়েছে। বরাদ্ধ পেলে সাত কার্য দিবসের মধ্যেই ভাঙ্গন রোধে কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছে।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

জুলাই ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুন    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১