July 22, 2017

ক্ষমতা কাহারো চির স্থায়ী নহে—

--- ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

11772

লিটন বাশার ॥ এই নশ্বর ধরাধামে কোন কিছুই অবিনশ্বর বা চির স্থায়ী নহে। শ্রষ্টার শ্রেষ্ট জীব হইয়াও মানুষ এমন কিছুই পায় না যাহা চিরকালীন। মহান রব্বুল আল-আমীনের কুরসি বা আসন ছাড়া কোন কিছুই স্থায়ী বা সর্বব্যাপী নহে। তবে হয়তো পৃথিবীর জন্ম লগ্ন হইতেই ক্ষমতার স্বাদ পাওয়ার সাথে সাথে তাহার অতীত ও ভবিষ্যত ভূলিয়া ইচছা তন্ত্রে লিপ্ত হইয়াছে। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার পূর্বে যখন রাজা- মহা রাজারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ শাসন করিতেন তাহাদের ক্ষমতার নির্দিষ্ট কোন সময় সীমা ছিল না। আইনী বাধাও ছিল না। কিন্ত তাহাদেরও ক্ষমতা হারাইতে দেখা গিয়াছে। রাজ পরিবারকে গভীর সংকটে পরিয়া রাস্তার ভিখারী হইবার নজির বহু রহিয়াছে। তাহারাও আজীবন সিংহাসনের সমাসীন থাকিতে পারেন নাই। আর বর্তমান গনতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় ইহা একেবারেই অসম্ভব।

মেয়াদান্তে দেশের শাসনতন্ত্র নির্দেশিত উপায় হস্তান্তর করা হইয়া থাকে। তবুও আমাদের মত দরিদ্র পীড়িত দেশে যখন যাহারা ক্ষমতায় গিয়াছেন তাহারাই আজীবনের জন্য ক্ষমতার মসনদ পাকা পোক্ত করিতে চাহিয়াছেন। এতে সুষ্ট অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন লইয়া  নানান অবিশ্বাস সৃষ্টি হইয়াছে। ছল- ছাতুরি, ছলে – বলে কৌশলে ক্ষমতায় থাকিতে গিয়ে জনদূর্ভোগ বাড়াইয়াছে বটে। কিন্ত কেহই ক্ষমতায় চিরকাল থাকিতে পারে নাই। জোর জুলুমের মাত্রা বাড়াইয়াও শেষ রক্ষা হয় নাই। বৈরী আবহাওয়া তাদের ক্ষমতার মসনদ হইতে ইতিহাসের আস্তা কুড়ে ছুড়িয়া ফালাইয়াছে। ইতিহাসের এ শিক্ষা আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো গ্রহন করেন নাই বলিয়া মনে হইতেছে। তাহাদের ক্ষমতা ধরিয়া রাখিবার অগনতান্ত্রিক অপ- কৌশলের কারনে নানান সংকট সৃষ্টি হইয়াছে।

ইহাতে গণতন্ত্রের ভীত বার বার নড় বড়ে হইয়াছে। জনগনের ও জান মালের ব্যাপক ক্ষতি হইয়াছে। দেশ ও জাতির কোন লাভ হয় নাই। সেই স্বৈর-শাসক এরশাদ হইতে শুরু করিয়া এখন পর্যন্ত ক্ষমতাধরদের আচরন প্রায় একই রকম। বরং স্বৈর শাসকের আমলে দেশের রাস্তা, পুল কালভাট সহ জীবন যাত্রার উন্নয়ন ঘটিলেও পরবর্তীতে যাহারা জনগনের ম্যান্ডেট লইয়া ক্ষমতায় বসিয়াছে তাহারা উন্নয়ন কর্মকান্ডে এরশাদের তুলনায় অদক্ষতার পরিচয় দিয়াছেন। বরং ক্ষমতার মসনদ ধরিয়া রাখিতে নানান তরিকায় ফন্দি- ফিকির খুজিয়া বাহির করিয়াছেন। স্বৈর শাসককে হটাইয়া জনগনের ভোটে নির্বাচিত বিএনপি সরকার তখন আওয়ামী লীগের তত্বাবধায়ক সরকারের দাবী মানিতে রাজি হইলেন না। বেগম খালেদা জিয়া তখন সংবিধান হইতে এক পা নড়িতে রাজি নহে জানাইয়া দিয়াছিলেন। বেগম জিয়ার বক্তৃতা শুনিয়া মনে হইতো  ‘প্রথম সংবিধান, আমার শেষ সংবিধান, জীবন সংবিধান, আমার মরন সংবিধান’। শেষ পর্যন্ত গণআন্দোলনের মুখে তত্বাবধায়ক সরকারের দাবী বেগম মানিয়া লইবার জন্য বেগম খালেদা জিয়া প্রায় ভোর রাত পর্যন্ত সংসদ সচল রাখিয়া বিল পাশের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করিলেন।

বিগত বিএনপি – জামায়াত জোট সরকারের আমলেও  প্রধান বিচারপতির চাকুরী মেয়াদ বাড়িয়ে, ভূয়া ভোটার তৈরী সহ নানান তরিকায় ক্ষমতা ধরিয়া রাখিবার চেষ্টা করা হইয়াছে। কিন্ত মানুষ এখন সচেতন হইয়াছে। বিএনপি- জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকা তো দূরের কথা ওয়ান ইলেভেন নামের শাসন – শোষনের যাতাকালে মানুষকে পিষ্ট হইতে হইয়া ছিল। বর্তমান শাসকরাও সেই ক্ষমতা ধরিয়া রাখিবার জন্য সংবিধান সংরক্ষনের তকমা ঝুলাইয়া ধরিয়াছেন। বিরোধী দল এখন তৎকালীন আওয়ামী লীগের ভূমিকায় অবর্তীন হইয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবীতে সোচ্চার হইয়াছে। দিন যতই যাইতেছে, উৎকন্ঠা ততই বাড়িতেছে।  

অনিশ্চয়তার যাতাকলে পিষ্ট জাতির উপর বিদেশী প্রভূদের চাপ রহিয়াছে। ৪০ বছরের বেশী বয়সী একটি রাষ্ট্র আজ বিদেশী প্রভূদের ফর্মূলায় চলিতেছে। স্বাধীন জাতি হিসাবে আজো আমরা পরাধীনতার শিকল বন্দী হইয়া আছি শুধুই ক্ষমতায় থাকিবার জন্য। জনগনের দোহাই দিয়া দেশের প্রধান দু’টি দল বা দু’টি জোট বলিয়া বেড়াইতেছেন ইহা জনগনের দাবী। অথচ জনগনের দাবী উপেক্ষা  করিয়া তাহারা বিদেশী প্রভূদের কে কি ভাবে ম্যানেজ করিয়া ক্ষমতায় থাকা যায় তাহা নিয়াই ব্যস্ত হইয়া উঠিয়াছেন। ইহা সচেতন গনমানুষের প্রত্যাশা হইতে পারে না। এই অবস্থার অবসান হওয়া দরকার।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

জুলাই ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুন    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১