July 22, 2017

র‌্যাব-৮’র ৮ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী

--- ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

rab

শাহীন হাফিজ ॥   ২০০৬ সালের এই দিনে নগরীর রুপাতলীতে সমাজ সেবা অধিদপ্তরের জায়গায় র‌্যাব-৮ এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। সন্ত্রাস দমনের ব্রত নিয়ে র‌্যাব-৮ এর চৌকশ সদস্যগন তাদের অধীনে থাকা ১১ জেলায় জঙ্গী ও মাদক দমনে ব্যাপক সাফল্য কুড়িয়েছে। গত প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী থেকে আজ পর্যন্ত  গত এক বছরে র‌্যাব-৮’র অধিন বিভিন্ন সিপিসি ও সরাসরি ব্যাটালিয়নের অভিযানে ৪ কোটি টাকার মাদক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। মাদক সহ গ্রেফতার করা হয়েছে ৫৪০ জন মাদক ব্যবসায়ীকে। এ সময়ে জলদস্যু দমনে সুন্দরবন সহ বঙ্গোপসাগরের মোহনা ঘেঁষে বিভিন্ন এলাকায় জলদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে র‌্যাব-৮। সুন্দরবনের শীর্ষ ৪টি জলদস্যু বাহিনীর প্রধান সহ মোট ২৮ জলদস্যু ও বনদস্যু র‌্যাবের বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়। জলদস্যুদের আস্তানা থেকে ৪২ জন অপহৃত জেলেকে উদ্ধার ও ৯ জলদস্যুকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র‌্যাব-৮। এছাড়াও জঙ্গিদের গ্রেফতারে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে র‌্যাব সদস্যরা। তবে গত বছরে জঙ্গীদের তেমন তৎপরতা না থাকলেও র‌্যাবের গোয়েন্দা ইউনিট পুনরায় দক্ষিনাঞ্চলে জঙ্গিদের সংগঠিত হওয়ার তথ্য পেয়েছে। ফলে জঙ্গীদের অপতৎপরতা মোকাবেলায় নতুন করে চ্যালেঞ্জ নিতে হবে র‌্যাবকে। এমন তথ্য পাওয়া গেছে র‌্যাব কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে। জঙ্গী দমন হবে র‌্যাবের নতুন বছরের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ।

র‌্যাব সূত্র জানায় ২০০৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর নগরীর রূপাতলীতে সমাজ সেবা অধিদপ্তরের জমিতে ব্যাটালিয়ানের অস্থায়ী কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করে ১১ জেলায় এর কার্যক্রম শুরু হয়। সন্ত্রাস দমনে বিগত জোট সরকারের আমলে পুলিশের এলিট ফোর্স হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে র‌্যাবের। শুরুতে র‌্যাব-৬ খুলনা থেকে বরিশাল বিভাগে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। বরিশালে ব্যাটালিয়ান স্থাপনের পর এ বিভাগের ৬ জেলা ছাড়াও গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরিয়তপুর ও রাজবাড়ি জেলায় জঙ্গি ও মাদক দমনে র‌্যাব ব্যাপক সাফল্যের কারনে জনপ্রিয়তা পায়। র‌্যাব-৮ গঠনের পর এ অঞ্চলের শীর্ষ সন্ত্রাসী, জলদস্যু ও বনদস্যু সহ বিভিন্ন আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হয়।

র‌্যাব-৮’র বর্তমান কমান্ডিং অফিসার লে.কর্নেল ফরিদ আহমেদ জানান, গত এক বছরে ৩৯ হাজার ৭২৩ বোতল ফেন্সিডিল, ৬৭৪ কেজি গাজা, ৯ হাজার ৬৬৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৭ হাজার ৮৩৮ কেজি হেরোইন, ৪৬ বোতল বিদেশী মদ, ২০ ক্যান বিয়ার, ভাং সাড়ে ৩১ কেজি, ৮৬৫ লিটার দেশী মদ ও ২৭টি এ্যাম্পুল নেশা জাতীয় ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়েছে। এর মূল্য যাচাই করে টাকার অংক নির্ধারন করা হয়েছে ৩ কোটি ৭৫ লক্ষ ৭০ হাজার ৪১০ টাকা। এসব নেশা জাতীয় দ্রব্যের সাথে গ্রেফতার করা হয়েছে ৫৪০ জনকে। এছাড়াও অস্ত্র, গোলাবারুদ সহ গ্রেফতার করা হয়েছে ৫৩ জনকে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১৪টি পিস্তল, ৫টি বিদেশী রিভলবার, ৩টি পাইপগান, ৩৪টি এলজি, ১৭টি ওয়ান শুটারগান, এসবিবিএল ১২টি, ২টি ডিবিবিএল, ৪টি .৩০৩ রাইফেল, ২২ রাইফেল দুটি, একনালা বন্দুক ৬টি, দু’নালা বন্দুক ১টি, এয়ারগান ৯টি, লাঞ্চার ১টি, গুলি ও কার্তুজ ৪৯৭ রাউন্ড, ৩৩টি ককটেল বোমা, ৫টি ম্যাগাজিন, ৪৮টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র। এসব অস্ত্র উদ্ধারের সাথে গ্রেফতার করা হয় ৫৩ জনকে।

র‌্যাবের ১১টি ব্যাটালিয়ানের মধ্যে র‌্যাব-৮ উপকূলীয় এলাকায় দায়িত্ব পালন করায় জলদস্যু দমনের জন্যই তাদের বেশি সময় ব্যয় করতে হয়। দিন-রাত নিরলস পরিশ্রম করে বঙ্গোপসাগর থেকে সুন্দরবনের গহীন অরণ্য এবং দুর্গম চর-কুকরি-মুকরি ও ঢালচর পাতিলা সংলগ্ন এলাকায় জলদস্যু দমনে ব্যাপক সাফল্য পাওয়ায় খুশী র‌্যাব সদস্যরা।
ব্যাব-৮’র সিপিসি-১ এর কমান্ডার ক্যাপ্টেন বাশার জানান, সিপিসি-১ এর অধীনে থাকা ৪ জেলার মধ্যে স্পর্শকাতর জেলা হচ্ছে ভোলা। দেশের গাঙ্গেয় অববাহিকার এ দ্বীপ জেলার সিংহভাগ মানুষের পেশা ইলিশ শিকার করায়। প্রমত্তা মেঘনা ও তেতুলিয়া নদী বেষ্টিত এই জেলার জেলেরা নদনদীতে ইলিশ শিকার করতে গিয়ে বার বার জলদস্যুদের হামলার শিকার হচ্ছে। র‌্যাব-পুলিশের অভিযানে জামাল, কামাল ও ছকেট বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য বন্দুক যুদ্ধে নিহত হলেও জলদস্যুদের তৎপরতা থেমে নেই। জলদস্যুদের অপতৎপরতার মাঝেই বরিশাল ও ঝালকাঠী জেলায় নতুন করে জঙ্গিদের সংঘটিত হওয়ার তথ্য পেয়েছে র‌্যাব। এ কারনে জলদস্যুদের পাশাপাশি জঙ্গিদের নিয়ে নতুন ভাবনায় পড়তে হচ্ছে বলে জানান ক্যাপ্টেন বাশার।
আজ প্রতিষ্ঠা বাষিকী উপলক্ষ্যে নানান আয়োজন করা হয়েছে র‌্যাব-৮ এর সদর দপ্তরে। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যাহৃ ভোজ, প্যারেড সহ নানান অনুষ্ঠান। এতে র‌্যাব-৮ এর অধীনে থাকা সকল সিপিসি’র কমান্ডার ও নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

জুলাই ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুন    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১