July 22, 2017

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে কুপিয়ে খুন

--- ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

barisal-university

কাজী রনি ॥ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্রী সাওদাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাসেল মাতুব্বর। প্রেমের সম্পর্কের অবনতি ঘটার জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকায় সাওদাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে রাসেল মাতুব্বর। গুরুতর অবস্থায় সাওদাকে প্রথমে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও অবস্থার অবনতি হলে এয়ার এম্বুলেন্সযোগে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। হামলার ৭ ঘন্টা পর সাওদা সন্ধ্যা ৬টায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। তার মৃত্যুর খবর বরিশালে পৌছলে বিশ্ববিদ্যালয় ও সাওদা’র গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায় সওদা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। তার প্রেমিক রাসেল মাতুব্বর একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বানিজ্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। দু’জনের বাড়ি বরগুনা জেলায়। সেখানকার কলেজে অধ্যায়ণরত অবস্থায় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীরা জানিয়েছে তারা গোপনে বিয়ে করেছে। ঐ বিয়ে সাওদা’র পরিবার মেনে নিতে রাজি না হওয়ায় প্রেমিকের কাছ থেকে দুরত্ব রেখে চলতে শুরু করে সাওদা।

সম্প্রতি তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। এর জের ধরে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকায় সাওদাকে কুপিয়ে জখম করে রাসেল। গুরুতর অবস্থায় সাওদাকে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানোর পরামর্শ দেয়। শেবাচিম হাসপাতালের সার্জারী বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ নজরুল ইসলাম জানান, সাওদা’র মাথার আঘাত গুরুতর। তার অবস্থা সংকটাপন্ন। তাৎক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাওদাকে এয়ার এম্বুলেন্স যোগে ঢাকায় প্রেরণ করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির কিছুক্ষণ পর সাওদা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ শামসুদ্দিন। সাওদা’র মৃত্যুর খবরে ক্যাম্পাসে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। তারা ঘাতক প্রেমিক রাসেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করে শ্লোগান দেয়।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে,  সাওদা বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার হাতেমপুর গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে এবং বিশ্বদ্যিালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। হামলাকারী রাসেল মাতুব্বরও একই উপজেলার কেরামতপুর গ্রামের হারুন মাতুব্বরের ছেলে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
কোতয়ালী মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই গোলাম কবির জানান, রাসেলের মেসে তল্লাসী চালিয়ে ৩টি চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে। এতে রাসেল তার মাকে উদ্দেশ্য করে হতাশার কথাবার্তা লিখে রেখেছে। সে তার প্রেমিকাকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করবে বলে চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে। তিনি আরো জানান জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য রাসেলের এক বন্ধুকে আটক করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
হামলার খবর পেয়ে গুরুতর আহত ছাত্রী সাওদাকে দেখতে গতকাল দুপুরে শেবাচিম হাসপাতালে ছুটে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. প্রফেসর হারুনর রশীদ খান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য শিক্ষাবিদ প্রফেসর মোঃ হানিফ। এসময় উপস্থিত সাংবাদিকদের ভিসি প্রফেসর ড. হারুনর রশীদ জানান, রাসেল এক সময় সাওতার প্রাইভেট শিক্ষক ছিল। কিছুদিন আগে তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হলে সওদাকে লাঞ্ছিত করে রাসেল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জেনে দু’জনকে ডেকে সতর্ক করে এবং শান্ত থাকার নির্দেশ দেন। ঐ ঘটনায় ছাত্রীর পরিবার থানায় সাধারন ডায়রীও করে বলে ভিসি জানান। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের জরুরী সভা ডেকে অভিযুক্ত ছাত্র রাসেলের ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

জুলাই ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুন    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১