July 23, 2017

প্রেম থেকে ক্ষোভ আর ক্ষোভ থেকে হত্যার পরিকলপনা

--- ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

barisal-university-news

কাজী রনী ॥ বরিশাল বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্রী সাওদা’র হত্যাকারী প্রেমিক রাসেল সরদারকে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতারের পর শুক্রবার নগরীর বিএম স্কুল রোডস্থ উপ-পুলিশ দক্ষিনের কার্যালয় প্রেস ব্রিফিং করেন উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) সোয়েব আহমেদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) এটিএম মুজাহিদুল ইসলাম ও অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার আতিকুর রহমান মিয়া। প্রেস ব্রিফিংয়ে উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) সোয়েব আহমেদ জানান, প্রেম থেকে ক্ষোভ আর ক্ষোভ থেকে হত্যার পথ বেছে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া ছাত্র রাসেল।

তিনি সাংবাদিকদের জানান গ্রেফতারের পর রাসেল পুলিশের কাছে যে তথ্য দিয়েছে তাতে সাওদাকে কুপিয়ে জখমের পর রাসেল ৬টি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করছিলো। ঐদিন ৫ সেপ্টেম্বর সে বরিশাল থেকে মাওয়া হয়ে মিরপুর ৭ নম্বরে তার বন্ধু অপূর্ব’র মেসে যায়। পরদিন ৬ সেপ্টেম্বর সকালে উঠে পার্শ্ববর্তী দোকানে চা খেতে যেয়ে পত্রিকায় সাওদা মারা গেছে জানতে পেরে ভয় পায়। ঐ রাতে সে গাজীপুরে গিয়ে লেবারের কাজ নেয়। ৭, ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর দৈনিক ৫শ’ টাকার ভিত্তিতে সে ইট ভাঙ্গার কাজ করে।

৯ তারিখ ঢাকা এয়ারপোর্টে চলন্ত ট্রেনে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যার চিন্তা করে। সেখানে এক লোকের সাথে পরিচয় হলে তার সাথে চট্টগ্রাম গিয়ে ইপিজেট এলাকায় কাজ নেয়। উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন সাওদা খুন হওয়ার পর পুলিশের ৩টি টিম মাঠে নামে রাসেলকে ধরতে। কিন্তু ৮ তারিখ রাসেল তার সব কটি নম্বর বন্ধ করে ফেললে পুলিশ বেকায়দায় পড়ে যায়। পরে উন্নত প্রযুক্তি ও সোর্সের মাধ্যমে ১২ তারিখ কৌশলে চট্টগ্রামের বন্দর ও হালিশহর থানার মধ্যবর্তী স্থান কলসী দিঘী এলাকা থেকে রাসেলকে কৌশলে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপ-পুলিশ কমিশনার জানান, রাসেলকে খুব দ্রুত আদালতে সোপর্দ করা হবে। তার পূর্বে সে যে অস্ত্রটি দিয়ে সাওদাকে হত্যা করেছিলো সেটি উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।

প্রসঙ্গত ঃ ৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকায় সাওদাকে কুপিয়ে হত্যা করে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাসেল। প্রেমের সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় প্রেমিক রাসেল ধারালো অস্ত্র দিয়ে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে সাওদাকে হত্যা করে।

ঐদিনই সাওদা’র মা সাহিদা বেগম বাদী হয়ে রাসেলকে প্রধান অভিযুক্ত ও দু’জনকে অজ্ঞাত আসামী করে বরিশাল কেতায়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। খুনের পর থেকে রাসেল পলাতক ছিলো। রাসেলের গ্রেফতারের দাবীতে সাওদা’র গ্রামের বাড়ি পাথরঘাটা ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সহ বিভিন্ন সংগঠন নগরীতে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচী পালন করে আসছিলো।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

জুলাই ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুন    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১