July 22, 2017

বরিশালে মায়ের হাতে মাদকাসক্ত পূত্র খুন ॥ মা ও স্ত্রী গ্রেফতার

--- ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

বরিশাল টুডে ॥ মাদকাশক্ত পুত্রের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে ইদুরের ওষুধ খাইয়ে ও শক্ত কাঠ (মুগুর) দিয়ে পিটিয়ে নিজ ছেলেকে হত্যা করেছে পাষন্ড মা মনোয়ারা বেগম। মঙ্গলবার রাতে বরিশালের হিজলা উপজেলার পুত্তনীভাঙ্গা গ্রামে লোমহর্ষক এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার রাতে পুলিশ পার্শ্ববর্ত্তি ধান ক্ষেত থেকে ছেলে আহসান হোসেন (৩৫) এর বস্তা বন্ধি লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শেবাচিম মর্গে পাঠায়। পুলিশ মা মনোয়ারা বেগম ও নিহতের স্ত্রী  শাহনাজকে গ্রেফতার করেছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় চৌকিদার আলী হোসেন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। মনোয়ারা বেগম নিজ ছেলেকে হত্যার দ্বায় স্বীকার করেছে বলে জানান হিজলা থানার ওসি শওকত আনোয়ার। স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলা গোয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের পত্তুনীভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মকবুল খানের পূত্র আহসান হোসেন দীর্ঘ দিন ধরে মাদকাশক্ত হয়ে পরেন। নেশার টাকা নিয়ে তার মা-বাবা ও স্ত্রীসহ পরিবারের অন্যন্য সদস্যদের মারধর করতো। এমনকি পুেেত্রর হামলায় ইতিপূর্বে একাধিকবার আহত হন মা মােয়ারা বেগম।

এসময় ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুরও করে আহসান। পূত্রের এমন অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিলো মা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। এ ঘটনায় মা মনোয়ারা তার পূত্রকে হত্যার পরিকল্পনা করে। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে নেশা করে বাড়ি ফিরলে মা পূত্র ইদুরের ওষুধ মিশানো খাবার দেয়। খাবার খেয়ে পুত্র আহসান অসুস্থ্য হয়ে পড়লে মা শক্ত কাঠ (মুগুর) দিয়ে মাথায় একাধিকবার আঘাত করে। এতে তার মাথা ফেটে যায়। এক পর্যায়ে মা পূত্রের গলা টিপে মুত্যু নিশ্চিত করে প্লাস্টিকের বস্তায় বেধে ঘরের এক কোনে রেখে দেয় পূত্রের লাশ। দু’দিন পরে ১২ সেপ্টেম্বর রাতে মা মনোয়ার তার পুত্রবধু (নিহতের স্ত্রী) শাহনাজের সহায়তায় পার্শ্ববর্ত্তি ধান ক্ষেতে লাশ ফেলে রেখে আসে।

ওই রাতে মনোয়ারা পুলিশ কে ফোন করে তার ঘরে ডাকাত পরেছে এবং তার পূত্রকে ডাকাতরা হত্যা করে লাশ নিয়ে গেছে বলে জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষনিক ওই বাড়িতে গিয়ে ডাকাদির কোন আলামত না পেয়ে চলে আসে। শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয়রা ধান ক্ষেতে লাশ দেখে পুলিশে খবর দিলে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশ এসময় মা মনোয়ারা বেগম ও নিহতের স্ত্রী  শাহনাজকে আটক করে থানায় নিয়ে এলে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে পুত্রকে হত্যার কথা স্বীকার করেন মাতা মনোয়ারা বেগম। তবে নিহতের স্ত্রী হত্যাকান্ডের বিষয়টি জানলেও সরাসরি জড়িত ছিলোনা বলে মনোয়ারা পুলিশকে জানায়। 

বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার একেএম এহসানউল্লাহ বলেন, পত্র হত্যাকান্ডের কথা মা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় মা ও নিহতের স্ত্রীকে গ্রেফকার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরনের প্রস্তুতি চলছে। তিনি আরো বলেন, নিহতের পিতা অতি বৃদ্ধ হওয়ায় স্থানীয় চেীকিদার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

জুলাই ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুন    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১