July 22, 2017

শেবামেকে ছাত্রদল-ছাত্রলীগ মুখোমুখি

--- ৪ অক্টোবর, ২০১৩

news-today-sbmc

 ভন্ড পীরেরা জখন এলেন না তখন মুরীদদের তো ক্ষমা চাওয়া ছারা উপায় নেই। তা না হলে তো আর পিঠ বাচানো যাবেনা।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে শুক্রবার বেলা ১২ টায় এমনই ঘটনা ঘটলে, কলেজ ছাত্রলীগের সিনিয়র দুই যুগ্ম আহবায়ক তাদের ৩ ব্যাচের জুনিয়র ২ ছাত্রের কাছে শতশত শিক্ষার্থীর সামনে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন। আর এ ক্ষমা না চাইলে তাদের পরতে হত রোশানলে এমনকি গনধোলাইয়ের শিকার ও হতেও পারত তারা।

জানাগেছে, সারা দেশের সাথে একযোগে বরিশাল মেডিকেল কলেজের আওয়াতাধীন ২টি কেন্দ্র ২ হাজার ৫২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়। সকাল ১০ টায় পরীক্ষা শুরু হলে ১ ঘন্টা পর বেলা ১১ টায় শেষ হয়। পরীক্ষা শেষ হলে শিক্ষার্থীরা হল থেকে বেড় হতে থাকলে কলেজের প্রধান গেটের সামনে বিগত ৪ বছরের ইতিহাস ভেঙে কলেজ শাখা ছাত্রদলের নের্তৃবৃন্দ তাদের কর্মীদের নিয়ে শুভেচ্ছা মিছিল করেন।

আওয়ামীলীগ সরকারের ক্ষমতাকালীন সময়ে বিগত ৪ বছর ধরে ছাত্রলীগ এ শুভেচ্ছা মিছিল  করে আসলেও এ বছর তা আর করা হয়নি। তবে কয়েকজন ছাত্রলীগের নামধারী নেতা শুভেচ্ছা মিছিল করা এবং ছাত্রদলের মিছিল বন্ধ করতে পুলিশের সহায়তা চায়। তবে সেখানে বীরত্বের ভাব দেখিয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশ ছাত্রলীগকে ছাত্রদলের পাশেই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে মিছিল করার অনুমতি দেয়। পুলিশ সকল প্রস্তুতি নিলেও পরে আর সেই ছাত্রলীগ নেতাদের ক্যাম্পাসে দেখা যায়নি।

এর কারন হিসেবে জানাযায়, ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতারা এবং ছাত্রসংসদের নেতাদের কাছ থেকে কোন অনুমতি না পাওয়ায় সাধারণ ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মীরা নামধারী নেতাদের ডাকে মাঠে নামতে রাজি হননি।

এসব ঘটনায় ছাত্রদল বিনা বাধায় সুষ্ঠভাবে তাদের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে।

বেলা ১ টার দিকে ছাত্রদলের নেতারা কর্মীদের সাথে মিছিল শেষে ঘরোয়ামিটিং শেষ করে ছাত্রবাসে ফিরে আসে।

২ নম্বর হোষ্টেলের নিচতলার ১১১ নম্বর কক্ষের বাসিন্দা ও ৪৩ তম ব্যাচের ছাত্র এবং ছাত্রদল কর্মী আরিফ ও রিদন সবার মতই রুমে আসে। এবং জুমার নামাযের জন্য প্রস্তুতি নেয়। এমন সময় ৪০ তম ব্যাচের ছাত্র ও একই হোষ্টেলের ২০৩ ও ২০৬ নম্বর কক্ষের বাসিন্দা এবং ছাত্রলীগের কলেজ কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মঞ্জুরুল ইসলাম ভূইয়া রাফি ও প্লাবন তাদের কক্ষে যায়। মিছিলে যাওয়ার কারন জানতে চেয়ে রাফি ও প্লাবন তিনব্যাচ জুনিয়র ছাত্র আরিফ ও রিদনকে বেধম মরধর করে। আরফি ও রিদনের উপর হামলার কথা ছাত্রাবাসে ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদলের প্রস্তাবিত কমিটির সভাপতি জামসেদ, সাধারণ সম্পাদ রাকিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন সৈকত, রেজওয়ান সীমান্ত, দপ্তর সম্পাদক এফ এ আল মামুনসহ শতাধিক নেতাকর্মীরা ২ নম্বর হোষ্টেলে অবস্থান নেয় এবং রাফি-প্লাবনের হাত থেকে ছাত্রদল কর্মীদের উদ্ধার করে। ঘটনার সাথে সাথে কোতোয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে চলে আসলে উভয়পক্ষের মধ্যে বাক-বিতান্ডা ছাড়া বড় কোন অপ্রিতীকর ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে রাফি ও প্লাবন একা হয়ে পড়লে তাদের সঙ্গ দিতে যুগ্ম আহবায়ক সজীব, মোসাদ্দেক ও নয়ন ৩ জন কর্মী নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু শত ছাত্রদল নেতা-কর্মীর সামনে এ ৮ জন নেতা কিছু না মনে হলে রাফি মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসীমউদ্দিনকে মুঠো ফোনে জানায়। জসীম কথিত ছাত্রলীগ নেতা মিলন, কানন, সোহেলসহ তার ৬ সহোচরকে তিন মটর সাইকেল যোগে ক্যম্পাসে পাঠান। এতে ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে কোতোয়ালী থানা পুলিশেল ওসি শাখাওয়াত কিছুটা লাঞ্ছিত করে ৬ বহিরাগত নেতাকে ক্যাস্পাস থেকে বেড় করে দেয়।

পরবর্তীতে ছাত্রদল নেতারা ১ নম্বর হোষ্টেলের সামনে অবস্থান নেয়্ এবং ছাত্রলীগের ৮ নেতা ২ নম্বর হোষ্টেলের ভিতর চলে যায়। কিন্তু উচ্চ পর্যায়ের কোন য়োন বা নেকা না আসায় পরিস্থিতি খারাপ দেখে কোতোয়লী থানার এস আই এ.এর মুকুল ও মহিউদ্দিনের সহায়তায় রাফি ও প্লাবন ছাত্রদল নেতাদের সাথে সমঝোতার কথা বলতে আসে। এসময় উভয় পক্ষের পুনরায় বাক-বিতান্ডা বাধে। তবে ছাত্রদল নেতাদের সামনে ভিজে বিড়ালের মত চুপসে যায় রাফি ও প্লবন। বাধ্য হয়ে তিনব্যাচ জুনিয়র ও হামলার শিকার দ্ইু ছাত্রের কাছে মাফ চায় রাফিও প্লাবন। এ ঘটনার পর কলেজ প্রশাসনের ডাঃ ভাস্কর সাহা ও ছাত্রসংসদের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান ঘটনাস্থলে আসেন। তারা ছাত্রদল-ছাত্রলীগ ও পুলিশের বক্তব্য শোনেন। তবে এস আই এ.এর মুকুল রাফি ও প্লাবনের ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানালে পুনরায় আর বিচারের ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। তবে ক্যাম্পাসে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ছাত্রসংসদের নের্তৃবৃন্দকে কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়।

এ বিষয়ে জামসেদ জানায়, আমরা শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ক্যাম্পসে মিছিল করেছি, ছাত্রলীগও করত, তাদের লোকবল নেই তাই হয়তো করেনি। আর এ ঝালই ঝাড়তে জুনিয়র ছাত্রদের ইপর হামলা মেনে নেয়া যায়না। যেহেতু সিনিয়র হয়ে জুনিয়রদের কাছে মাফ চেয়েছে তাই ওদের মাফ করে দেয়া হয়েছে। তবে পুনরায় আমাদের কোন নেতা-কর্মীদের উপর হাত তোলা হলে আর বরদাস্ত করা হবেনা। পাল্টা জবাব দেয়া হবে। তিনি এ ও বলেন, আমাদের এ ক্যাম্পাসে অবস্থান নিতে মাত্র ৫ মিনিট সময় লাগবে। তা বুঝেও ওরা আমাদের সাথে লাগতে আসে কেন বুঝিনা। এ বিষয়ে আনিসুর রহমান বলেন, যেহেতু ক্ষমা চেয়েছে তখন আর কিছু করার প্রয়োজন দেখিনা, তবে ছাত্র-সংসদকে জানালে এমনটা হতনা। ছাত্রলীগ-ছাত্রদল নয় সবাই শিক্ষার্থী তাই নিজেদের মধ্যে দন্ধের ফলাফল কি ভাল হবে।
 এ বিষয়ে কোতোয়লী থানার ওসি শাখাওয়াত বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে নিয়ে সংঘর্ষ ও হাতাহাতি করে কি লাভ। এখানে শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা করতে আসে। তারপর ও যে ঘটনা ঘটেছে তা তাৎক্ষনিক নিয়ন্ত্রনে আনা হয়েছে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে তবে এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

জুলাই ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুন    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১