July 22, 2017

বরিশাল বিএনপি’র ঘনিষ্টতা বাড়ছে ॥ আওয়ামী লীগে বাড়ছে কোন্দল

--- ৮ অক্টোবর, ২০১৩

bnp

শাহীন হাফিজ ॥ এক যুগেরও বেশী সময় ধরে বিএনপি’র অভ্যন্তরীন কোন্দলের নিরসন হয়েছে গত জুন মাসে অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। তখন  বিরোধ নিরসন করে দলের একক প্রার্থী হওয়ার জন্য জেলা বিএনপি’র সভাপতি আহসান হাবিব কামাল আকস্মিক ছুটে যান মহানর বিএনপি’র সভাপতি এমপি মজিবর রহমান সরোয়ারের বাসভবনে।

তাৎক্ষনিক সরোয়ার ও তার অনুগত কর্মীদের মান না ভাঙ্গলেও কিছু দিনের মধ্যেই দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া সহ কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে সকল দ্বন্দ্ব ভূলে কামাল ও সরোয়ারের সমর্থকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলের সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামেন। এ ঐক্যের সুফল পেয়েছে বিএনপি। তাদের দলের সমর্থিত প্রার্থী আহসান হাবিব কামাল তার শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বি মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্ত নির্বাচনের পর কেটে গেছে সাড়ে তিন মাসের বেশী সময়। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচীতে মজিবর রহমান সরোয়ার ও আহসান হাবিব কামালকে একত্রে দেখা গেলেও ঘরোয়া বৈঠকের নজির নেই। গত শুক্রবার  রাত ৮ টার দিকে নব নির্বাচিত মেয়র আহসান হাবিব কামালের বাস ভবনে হাজির হন সংসদ সদস্য ও সাবেক মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ার। বৈঠকের পর যে সাধারণ কর্মীদের মাঝে যে দ্বন্দ্ব ছিলো তাও অনেকটা নিরসন হয়েছে বলে সিনিয়র নেতারা জানান। মঙ্গলবার আহসান হাবিব কামাল আনুষ্ঠানিক ভাবে নগর ভবনে দায়িত্বভার গ্রহণ অনুষ্ঠান যেন পরিনত হয় বিএনপি’র সমাবেশে। বিবাদ ভুলে বিএনপি’র বিবাদমান নেতা-কর্মীরা আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠে। সিনিয়র নেতারা জানান, কর্মীরা যাতে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ থাকেন তার উপর গুরুত্ব বাড়াতেই বর্তমান সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল ও সদর আসনের সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার দীর্ঘ এক যুগের বিবাদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এক যুগের কোন্দলের অবসান ঘটিয়ে যখন বিবাদমান বিএনপির দু’ নেতা যখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঘনিষ্টতা বাড়াচ্ছেন। তখনই গৃহ বিবাদে জ্বলছে শাসক দল আওয়ামী লীগ।  আগামী সংদস নির্বাচনকে ঘিরে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পরিবর্তে কোন্দল চরমে উঠছে।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর পরই দলের মধ্যে অভ্যন্তরীন কোন্দল মাথাচড়া দিয়ে উঠে। শুরুতে তা রাজপথে না গড়ালেও সাবেক চীফ হুইপ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ও সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই কর্মী সমর্থকদের দুই মেরুতে বিভক্ত করে দেয়। গত সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই সেই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রুপ নেয়। নির্বাচনে পরাজয়ের পরদিনই সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত হোসেন হিরন বরিশাল ক্লাবে কর্মী সভা ডেকে তার পরাজয়ের জন্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে দায়ী করেন। এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আসতে থাকে দু’ নেতার অনুসারীদের কাছ থেকে। সর্বশেষ গত ১৬ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে উভয় নেতার কর্মী – সমর্থকদের মাঝে তুমুল সংর্ঘষ হয়। ঐ সংর্ঘষের মাত্র ৪৮ ঘন্টা আগে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ঢাকায় গিয়ে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকলকে কাজ করার নির্দেশ দিলেও দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা করেছেন উল্টো কাজ। সিটি নির্বাচনের পর থেকে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভাজনের রেখা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আগে জাতীয় দিবস ও দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ ভাবে পালন করলেও এখন উভয় গ্র“প পাল্টা- পাল্টি ভাবে পৃথক কর্মসূচী পালন করছেন। বিরোধের কারনে কর্মী সমর্থকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। এদিকে গেলে অন্য নেতা অখুশী হন। তাই গ্র“পিং এর কারনে নিস্ক্রিয় হয়ে গেছেন দলের অনেক নেতা-কর্মী।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

জুলাই ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুন    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১