September 21, 2017

হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি ঘরে ব্যাপক হামলা – ভাংচুর- অগ্নিসংযোগ ॥ পুলিশের বিরুদ্ধে নিস্ক্রিয় থাকার অভিযোগ

--- ১৫ নভেম্বর, ২০১৩

Untitled-1

নগর সংলগ্ন চরকাউয়া এলাকায় কলেজ ছাত্র খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংখ্যা লঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি ঘরে ব্যাপক হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। দুর্বত্তরা পুলিশের সামনেই  ১৬টি বসত ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে । শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের চরআইচা গ্রামে পুলিশের উপস্থিতে এ ঘটনার সময় নিরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে ব্যাটমিন্টন খেলাকে কেন্দ্র করে পিযুষ, ধীমান, শান্ত চন্দ্র হালদার সহ কয়েক জনের সাথে পারভেজ গাজী ও ভাইদের সংর্ঘষ হয়। এতে পারভেজ গুরুতর আহত হয়ে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাতেই মারা যায়। গুরতর আহত জহিরুলকে ঢাকায় প্রেরন করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জহিরুল মারা গেছে এমন গুজব রটিয়ে পরলে বিক্ষুদ্ধ গ্রামবাসীরা হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি ঘরে ব্যাপক হামলা  ভাংচুর ও লুটপাট করে। নিরহ হিন্দু পরিবারের বাড়িঘরও রক্ষা পায়নি দুর্বত্তদের হাত থেকে।  পুরো গ্রাম জুড়ে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে। দমকল ইউনিট অকুস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রণের পূর্বেই পন্ডিত বাড়ীর ১১টি, ধোপা বাড়ীর ৩টি ও ধিরাজ বাড়ীর ২টি বসত ঘর ভস্মিভুত হয়।
খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক শহীদুল আলম ও পুলিশ কমিশনার মো. শামসুদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। জেলা প্রশাসক শহীদুল আলম ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি পরিবারকে নগদ ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান প্রদান করেছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর নির্মাণের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাল বরাদ্দ দেয়া হবে বলে জেলা প্রশাসক শহীদুল আলম সুগন্ধা ডট কমকে জানান। ঐ ঘটনা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।  অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) কে প্রধান করে গঠিত এ তদন্ত কমিটিতে সদর ইউএনও বেগম শামীমা ফেরদৌস সদস্য করা হয়েছে।

স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান, পারভেজ গাজী নিহত হওয়ার পর পুলিশ ছিলো নিস্ক্রিয়। অভিযুক্তদের তাৎক্ষণিক গ্রেফতারে বা গ্রামবাসীদের নিরাপত্তায় তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বিএমপি পুলিশ। মেট্টোপলিটন পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উদাসীনতার কারনেই মধ্যযুগীয় এ বর্বরতা প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে চরকাউয়া বাসীকে। পুলিশ কমিশনার সামসুদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীকে বাধা দিলে আরো প্রাণহানী ঘটত। রাতে ঘটনাস্থলে ৪ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিলো বলে নৌবন্দর থানার ওসি রেজাউল ইসলাম জানান। সকালে পুলিশ প্রত্যাহারের পর অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। হামলার সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে ছিলো না বলে ওসি দাবী করেন। তিনি জানান, হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে পিযূষ চন্দ্র হালদার, শম্ভু, সমীর ও ধীমানের পিতা ধীরেন চন্দ্র হালদারকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের জের ধরে বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের সময় ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয় নিহতের পারভেজের খালাতো ভাই পাভেল গাজীকে।

নৌবন্দর থানার এসআই সমীর জানান, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের পর গরু লুট করে পালিয়ে যাওয়ার সময় পারভেজকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। অগ্নিসংযোগে দুটি গবাদিপশু অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার দৃশ্য বর্ননা করেন পুলিশের ঐ সাবইন্সপেক্টর জানান, বাড়িঘর ভস্মিভূত হওয়ার পূর্বেই গবাদী পশু সহ বাড়ির সকল মালামাল লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।  হত্যাকান্ড কিংবা বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। আপাতত আটক ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে পুলিশের নিস্ক্রিয়তায় এ বর্বর হামলার বিষয়টি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে এবং আন্তজার্তিক মানবাধিকর সংস্থাকে অবহিত করা হয়েছে। হিন্দু বৌদ্ধ্য ঐক্য পরিষদের নেতারা জানান পুনরায় সেখানে আবারো সংখ্যালঘুদের উপর হামলার আশংকার কথা তারা জানতে পেরেছেন। কিন্ত মহানগর পুলিশকে জানিয়ে কোন লাভ হয় না। তাদের জান মালের নিরাপত্তার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

সেপ্টেম্বর ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০