July 22, 2017

এবার টার্গেট বিজেপি নেতা ড. শান্ত

--- ১৮ নভেম্বর, ২০১৩

bjp

এরশাদের পর আরো অনেক নেতাকে নির্বাচন মুখী করতে তৎপর সরকার—

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদের পর আরো অনেক দলের নেতাদের নির্বাচন মুখী করতে সরকার নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে। এ তৎপরতা থেকে বাদ পড়ছে না ১৮ দল ভূক্ত শরীক দলের নেতারাও। কেউ কেউ দেশের মানুষ নির্বাচনমুখী মনে করে নির্বাচনের ব্যাপারে অনেকটা আগ্রহী হয়ে উঠেছেন বলে নানান সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায় এরশাদের জাতীয় পাটিকে দলে ভেরানোর পাশাপাশি আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জাতীয় পার্টি জেপিকেও নির্বাচনীমুখী করা হয়েছে। এরশাদের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই কৌশলে সরকারের কট্টর বিরোধী হিসাবে পরিচিত সাবেক প্রেসিডেন্ট ডা: বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর ( বীর উত্তম) নেতৃত্বে থাকা দু’টি রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনমুখী করতে সক্ষম হয়েছেন। এবার টার্গেট বিজেপি নেতা ড. আশিকুর রহমান শান্ত। ইতিমধ্যেই নানান প্রক্রিয়ায় তার সাথে যোগাযোগ করছেন সরকার। সাবেক সফল মন্ত্রী ভোলার রাজনীতির প্রান পুরুষ প্রয়াত নাজিউর রহমানের সুযোগ্য সন্তান ড. আশিকুর রহমান শান্ত ব্যক্তিগত জীবনেও তার বড় ভাই বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিষ্টার আন্দালিব রহমান পার্থ’র মত বিএনপি’র প্রতি অন্ধ সমর্থন নেই। নিজে ব্যক্তি স্বাধীনতা চেতা শান্ত’র নির্বাচনী আসন ভোলা-২ দৌলতখান ও বোরহান উদ্দিন উপজেলা নিয়ে। সেখানকার সাবেক বিএনপি দলীয় এমপি হাফিজ ইব্রাহিম হচ্ছে গিয়াস উদ্দিন আল- মামুনের বড় ভাই। তাই ১৮ দলীয় জোট নির্বাচনে অংশ নিলে হাফিজ ইব্রাহিমের কাছে মনোনয়ন লড়াইয়ে কতটা টিকতে পারবেন ড. শান্ত সে বিষয়টিও তার রাজনৈতিক ভাবনায় রয়েছে বলে বিজেপি নেতা-কর্মীরা মনে করছেন। একই সাথে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমানের পরিবারের সাথে শান্ত’র পরিবারের নানামুখী ঘনিষ্ট আতœীয়তার সম্পর্ক তার রাজনীতিতে প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ড.শান্ত’র মনে ক্ষোভ রয়েছে বিএনপি’র প্রতি। কারন তার মরহুম পিতা বিজেপি’র প্রতিষ্টাতা চেয়ারম্যান নাজিউর রহমান মঞ্জু ২০০১ সালে শ্বশুর পরিবার বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন আওয়ামী লীগের সাথে বিদ্রোহী ভূমিকায় অবর্তীন হয়ে বেগম জিয়ার হাত ধরেছিলেন। নানান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে নাজিউর প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ভোলার ৪ টি আসনেই আওয়ামী লীগকে পরাজিত করতে মূখ্য ভূমিকা পালন করেন। বিজেপি’র নেতা-কর্মী সহ সারাদেশের মানুষের ধারনা ছিল তৎকালীন চার দলীয় জোট ক্ষমতায় এসে নাজিউর রহমানকে মন্ত্রী হিসাবে সরকারে ঠাই দিবেন। কিন্ত ঘটেছে উল্টোটা। ক্ষমতার স্বাধ গ্রহনের পরিবর্তে নাজিউর রহমান জোট সরকারের কাছ থেকে পেয়েছেন শুধু বঞ্চনা আর অবহেলা। সেই ক্ষোভটি রয়েছে বিজেপি কর্মীদের মনে। এ সব নানান ক্ষোভ ও মান অভিমানের মাঝেই বড় ভাই বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিষ্টার আন্দালিব রহমান পার্থ’র কারনেই চার দলীয় জোটে থেকে দীর্ঘ দিন রাজনৈতিক বৈরী পরিবেশে লড়েছেন শান্ত। তবে সেই সম্পর্কেও চির ধরতে শুরু করছে বলে মনে করছেন নাজিউর ভক্তরা। তারা জানান-  রাজনৈতিক ছোট ছোট মতভেদ নাজিউর রহমানের সন্তানদের একান্নবর্তী পরিবার ভেঙ্গে গেছে। পিতার স্বপ্নের বাড়িধারার বাড়িটি ছেড়ে শান্ত তার স্ত্রীকে নিয়ে গুলশানের একটি ভাড়া বাসায় উঠেছেন। সেখানেই তিনি সদ্য জন্ম নেয়া একমাত্র কণ্যা সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছেন। বর্তমানে তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় রয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারনা এটা শান্ত’র নির্বাচনী এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ন সফর। কেন্দ্রের রাজনীতির নানান সমীকরনের মাঝেও নির্বাচনী এলাকার মানুষকেই শান্ত বেশী প্রধান্য দিচ্ছেন। বিজেপি নেতা-কর্মীরা জানান- মেধাবী অর্থনীতিবিদ ও বিজ্ঞ এই তরুন রাজনীতিবিদ সরকার যত টোপ তার সামনে ফেলুক না কেন নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের মতামতের বাইরে বড় ধরনের কোন সিদ্ধান্ত নিবেন না। তাই বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিতেই হয়তো তিনি নির্বাচনী এলাকায় ঘুরে নিজের বিশ্বস্থ কর্মী সমর্থকদের সাথে আলাপ করবেন। এরপরই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিতে পারেন আওয়ামী লীগকে।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

জুলাই ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুন    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১