September 21, 2017

চরকআইচার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে হিরন ॥ পুলিশের বিরুদ্ধে গ্রেফতার বানিজ্যের অভিযোগ

--- ২০ নভেম্বর, ২০১৩

caraica

বরিশাল টুডে ॥ নৌ-বন্দর থানার ওসি’র সামনেই গ্রেফতার বানিজ্যের কথা তুলে ধরলেন চরকাউয়ার ক্ষতিগ্রস্থ সংখ্যালঘু ও হত্যাকান্ডের শিকার পারভেজ গাজীর গ্রামের মুসলমানরা। তারা জানান- হত্যাকান্ডের পর পুলিশ হত্যাকারীদের গ্রেফতার করেনি। সংখ্যালঘুদের বাড়ি ঘরে হামলার পর পুলিশ পারভেজ হত্যাকান্ডের অজুহাতে ক্ষতিগ্রস্থ সংখ্যালঘু পরিবারের নিরহ সদস্যদের গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। একই ভাবে হিন্দুদের বাড়ি ঘরে হামলার অভিযোগে মুসলমান পরিবারের সদস্যদের আটক করে মুক্তিপণ আদায় করছে পুলিশ। বুধবার মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সিটি মেয়র শওকত হোসেন হিরন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে ওসি রেজাউল ইসলামের উপস্থিতিতেই ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যরা এ অভিযোগ করেন।

শওকত হোসেন হিরন প্রথমেই নিহত পারভেজ গাজীর পরিবারের সাথে সাক্ষাত করেন। এ সময় ঐ বাড়ির খোকন নামের এক যুবক অভিযোগ করেন তাকে আটক করে ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে পুলিশ মুক্তি দিয়েছে। একই সাথে ঐ বাড়ির আরো কয়েকজন যুবক জানান- তারা প্রত্যেকে জনপ্রতি ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পুলিশকে দিয়ে এলাকায় ফিরেছেন। পুলিশকে টাকা না দিয়ে এলাকায় ফিরলে তাদের আটক করে টাকা আদায় করা হয়। আগের রাতে কয়েক যুবককে আটক করে থানার উদ্দেশ্যে নিয়ে রওয়ানা হয় পুলিশ। পথিমধ্যে তাদের ঘুষ দিয়ে মুক্ত করে পরিবারের সদস্যরা। পারভেজ গাজীর পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানান- হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি ঘরে হামলার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার সুনির্দিষ্ট কোন আসামী নেই। ১৫’শ থেকে ১৬’শ জনকে আসামী করার কারনে পুলিশ নিরহ গ্রামবাসীদের কাছ থেকে বিপুল টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। পুলিশকে টাকা না দিয়ে কেউ এখনো গ্রামে ফিরতে সাহস পাচ্ছে না। ঘটনার পর ৪ দিনের মাথায় গ্রামে যে সব পুরুষ ফিরে এসেছেন তাদের প্রত্যেককে থানা পুলিশকে টাকা দিয়ে ফিরতে হয়েছে।

এরপর শওকত হোসেন হিরন ক্ষতিগ্রস্থ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাথে সাক্ষাত করতে  গেলে তারাও একই ধরনের অভিযোগ করেন। সেখানে উপস্থিত নারী সদস্যরা হিরনকে জানান- পারভেজ গাজী হত্যকান্ডের সাথে জড়িত সোহাগ দাস ও পাভেল দাসকে পুলিশ গ্রেফতার করেনি। তাদের বাড়ি ঘরেও হামলা – ভাংচুর হয়নি। অথচ যে সব নিরহ হিন্দু  সম্প্রদায়ের বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে পুলিশ সেই সব পরিবারের সদস্যদের গ্রেফতার করে আদালতে সোর্পদ করেছে। আবার কারো কাছ থেকে টাকা আদায় করে ছেড়ে দিয়েছেন। এখনো হিন্দু সম্প্রদায়ের পুরুষ সদস্যরা পুলিশের ভয়ে গ্রামে ফিরছেন না । যারা হাতে গোনা ২ / ১ জন ফিরছেন তারাও পুলিশকে টাকা দিয়ে গ্রামে ফিরে এসেছেন। পুলিশ তাদের কে পারভেজ হত্যা মামলার আসামী করার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে বলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা অভিযোগ করেন। এ অভিযোগের সময় সেখানে উপস্থিত থানার ওসি রেজাউল ইসলাম কোন মন্তব্য করেননি। শওকত হোসেন হিরন তাৎক্ষনিক ওসিকে ভৎসনা জানান। তিনি ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামবাসীকে হয়রানী না করে প্রকৃত দোষীদের খুজে গ্রেফতার করতে বলেন। একই সাথে বিষয়টি তিনি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের জানানোর আশ্বাস দেন। হিরন তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্থদের ৫০ হাজার টাকা অনুদান প্রদানের আশ্বাস দেন। এর আগে তার স্ত্রী জেবুনেচ্ছা আফরোজ ক্ষতিগস্থ প্রত্যেক পরিবারকে ৫ হাজার টাকা করে নগদ অনুদান প্রদান করেন।

এদিকে নাগরিক প্রতিনিধি দলের সাংবাদিক সম্মেলনে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক সংগঠন সম্বনয় পরিষদের সভাপতি সৈয়দ দুলাল পুরো ঘটনার জন্য পুলিশ কমিশনার মোঃ শামসুদ্দিনকে দায়ী করে বলেন তাকে প্রত্যাহার করা না হলে বরিশালে শান্তি আসবে না। হত্যকান্ড ও পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য পুলিশকে দায়ী করা হয় সাংবাদিক সম্মেলনে।
প্রসঙ্গত: চর আইচা গ্রামের কলেজ ছাত্র পারভেজ গাজীকে গত ১৪ নভেম্বর পরিকল্পিত ভাবে জবাই করে হত্যা করা হয়। পরদিন গ্রামের নিরহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ি ঘরে হামলা-ভাংচুর শেষে অগ্নিসংযোগ করা হয়। অথচ হত্যাকান্ডের নেতৃত্বদানকারী সোহাগ দাস ও পাভেল দাসের বসত ঘর সহ আত্মীয়’র বাড়ি রয়েছে সম্পূর্ন অক্ষত।  

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

সেপ্টেম্বর ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০