July 22, 2017

বিসিসির নিয়ম না মেনে চলছে বহুতল ভবন নির্মান

--- ২৫ নভেম্বর, ২০১৩

bulding

নোটিশ দেওয়ার পরও প্লান বর্হিভূতভাবে অবৈধ ভবন নির্মান কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন নগরীর ২৮নং ওয়ার্ডের কাশিপুর এলাকার ফিশারী রোডের সিদ্দিক হোসেনের স্ত্রী মাকসুদা বেগম। স্থানীয় কাউন্সিলর হুমায়ূন করিরের গাফলতির কারনে বিষয়টি ধীরে-ধীরে জটিল আকার ধারন করছে। সিটি করপোরেশন থেকে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেয়ার কথা থাকলেও বিষয়টি শুধু নোটিশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। প্রভাবশালী মাকসুদা বেগম নোটিশকে বারবারই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালেও কোন ব্যাবস্থা নিচ্ছেনা বিসিসি। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কমিশনারের যোগসাজেশে বিসিসি কর্তৃপক্ষ মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহন করে নিরব ভূমিকায় রয়েছে। তাছাড়া সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলর হুমায়ূন কবির বিসিসির নির্দেশ মোতাবেক এ সংক্রান্ত কোন প্রতিবেদনও এখন পর্যন্ত জমা না দেয়ায় প্রশ্মবিদ্ধ হচ্ছে বিসিসির কার্যক্রম। ফলে ক্ষোভ বৃদ্ধি পেয়ে ভুক্তভোগী ও দখলবাজদের উভয় পক্ষের মধ্যেই দেখা দিয়েছে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, মাকসুদা বেগমের কাছ থেকে ২৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হুমায়ূন কবির আপোষ-মিমাংসার নামে আর্থিক সুবিধা গ্রহন করে বিষয়টি সমাধানের নামে তালবাহানা পাকাচ্ছে। যে কারনে বারবার অভিযোগ করেও কোন রকম সু-ফল পাচ্ছেনা পার্শ্ববর্তী ভুক্তভোগী পরিবার সুমাইয়া মঞ্জিল।  এমনকি সেখানকার চলাচলের রাস্তাটির কিছু অংশ দখল পূর্বক ভবন নির্মান করেছেন ওই মাকসুদা বেগম।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, বরিশাল সিটি করপোরেশন প্লান বর্হিভূত এই ভবনটি নির্মানের ব্যাপারে অনিয়ম করা হচ্ছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ স্বরজমিনে পাঠায় একজন সার্ভেয়ারকে। স্বরজমিন পরিমাপ শেষে সার্ভেয়ার তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন সিদ্দিক হোসেনের স্ত্রী মাকসুদা বেগম প্লান বহির্ভূতভাবে রাস্তার উপরে সানসেট নির্মান ছাড়াও পাশ্ববর্তী ভবন থেকে সিটি করপোরেশনের নিয়মানুযায়ী পাশ্ববর্তী ভবন থেকে ৩ফুট ৪ইঞ্চি নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় না রেখে ভবন নির্মান করেছেন। যার ফলে মাকসুদা বেগমের ভবনের পানি পাশ্ববর্তী ভবনের বাসভবনে গিয়ে গড়াচ্ছে। সার্ভেয়ার আরো উল্লেখ করেন ভবনটিতে অবৈধ স্থাপনার পরিমান হবে কমপক্ষে চারদিকে ২ফুট ৬ইঞ্চি করে। পরে সার্ভেয়ারের প্রতিবেদন অনুযায়ী অবৈধ অংশ ভেঙ্গে ফেলতে ১ম দফা নোটিশ প্রদান করা হয় গত সেপ্টম্বর মাসের ১৮তারিখ। পরে ২য় দফা একই মাসের ২৪তারিখ ৭দিনের সময় দিয়ে নোটিশ প্রদান করা হয়। যাতে উল্লেখ করা হয়, সিটি করপোরেশন আইন ২০১০এর ১৫৭(৪)ধারা মোতাবেক এটি একটি অপরাধমূলক কাজ। যে কারনে ৩দিনের মধ্যে নির্মিত অংশ অপসারন করে স্থানীয় কমিশনার বিসিসি কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবিহিত করবেন। (স্মারক নং-বিবিসি/ইডি/উচ্ছেদ/১১২/১(৩)তাং২৬-৮-২০১৩)।

এ বিষয়ে স্থানীয় কমিশনার হুমায়ূন কবির জানান, পশ্চিম ও দক্ষিন পাশ্বের্র সমস্যা সমাধান হলেও উত্তর পার্শ্বের অবৈধ স্থাপনা ভাঙ্গা হয়নি। সেখানে ভাঙ্গতে গেলে অনেক বড় ক্ষতির সম্মুখিন হবে মাকসুদা বেগম। এজন্য আপোষ-মিমাংসা করা হয়েছে বলে দাবী করেন তিনি। পার্শ্ববর্তী ভবনমালিক অভিযোগ প্রত্যাহার করেন নি জানালে তিনি বলেন, প্রত্যাহার না করলে দুই-একদিনের মধ্যে আমি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সিটি করপোরেশনে প্রতিবেদন জমা দেব।

অন্যদিকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র দাস জানান এ ধরনের ঘটনায় সাধারনত অভিযোগকারি পরবর্তী খবর আমাদের সাথে যোগাযোগ করে জানায়  কিন্তু এখানে কেউ আমার সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করেনি, আমি সব কিছু জানিও না। তবে প্লান বহির্ভূত কোন কাজই বিসিসি হতে দেবেনা জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন আইন অনুযায়ী সকল অনিয়মের মোকাবেলা করা হবে।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

জুলাই ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুন    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১