July 22, 2017

ক্ষমতার দাপটে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কাছে নৌকায় পক্ষে কাজ করতে পান্নার নির্দেশ!

--- ৩ ডিসেম্বর, ২০১৩

index

বিশেষ প্রতিনিধি ॥  নৌকার টিকেট পেয়েই আচরন বিধি ভঙ্গ করে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বৈঠকে অনুমতি বিহীন স্ব-শরীরে নিজে হাজির হয়ে সরাসরি ভোট চাইলেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইসহাক আলী খান পান্না। উপস্থিত কর্মকর্তারা আসন্ন নির্বাচনে সকলেই প্রিজাইডিং অফিসার কিংবা পুলিং অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের নির্বাচনী বৈঠকে এ ভাবে অনাঙ্খাতি ভাবে হাজির হয়ে নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দেন পান্না। নির্বাচনী আচরন বিধি চরম ভাবে লংঙ্ঘন করে সহকারী রিটানিং অফিসারের উপস্থিতিতেই এ কান্ড ঘটালেও নির্বাচনে দায়িত্বে পালনের প্রস্তুতি নিতে আসা কর্মকর্তারা কিং কর্তব্য বিমূঢ় হয়ে পড়েন।

শাসক দলের প্রার্থী বিধায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস না পেলেও সভা থেকে বেড়িয়ে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। তারা নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে জানান-  দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পিরোজপুর-২ আসনের সহকারী রিটানিং অফিসার কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হাসান হাবিব প্রিজাডিং অফিসার ও পুলিং অফিসারদের ব্রিফিং করার জন্য উপজেলা পরিষদে বৈঠক ডাকেন। বৈঠকে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আঃ হক সহ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের জন্য তালিকাভূক্ত উপজেলার সকল শিক্ষকরা সেখানে হাজির হন। নির্বাচন সংক্রান্ত ব্রিফিং চলাকালেই সেখানে আকস্মিক মোটর শোভাযাত্রা নিয়ে হাজির হন নৌকা প্রতীকের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইসহাক আলী খান পান্না। তিনি যারা নির্বাচনে প্রিজাডিং অফিসার ও পুলিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন তাদের সাথে সহকারী রিটানিং অফিসারকে নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দেন। নিজ উপজেলার সন্তান দাবী করে তার পক্ষে কাজ করার জন্য তিনি উপস্থিত সকলকে আহবান জানান। বৈঠকে হবু এমপি’র এ নির্দেশনা নিয়ে সরকারী কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে পান্না ভোল্ট পাল্টান। তিনি সাংবাদিকদের জানান- প্রিজাডিং অফিসার, পুলিং অফিসার কিংবা সহকারী রির্টানিং অফিসারকে তিনি কোন নির্দেশনা দেননি। শুধু নৌকা মার্কায় তাদের কাছে ভোট চেয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রির্টানিং অফিসার হাসান হাবীব এ প্রতিবেদককে জানান- কোন প্রকার অবহিত না করেই আকস্মিক ভাবে পান্না সাহেব বৈঠকে হাজির হয়েছিলেন। তবে আদেশ নির্দেশ দেওয়ার কথা অস্বীকার করে ইউএনও জানান- তিনি শুধু শিক্ষকদের কাছে ভোট চেয়েছেন। বৈঠকে উপস্থিত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান- পান্না সাহেব দোয়া চাইতে এসেছিলেন। নির্বাচনী বৈঠকে এ ভাবে হাজির হওয়ায় শিক্ষকরা বিব্রত হয়েছেন বলে মনে করেন সরকারী ঐ দু’ কর্মকর্তা। তবে তারা বিষটি আচরন বিধি ভঙ্গের মধ্যে পড়ে কি না সে বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে কাউখালীর একাধিক শিক্ষক জানান- শুরুতেই যে ভাবে ইসহাক আলী খান পান্না মনোনয়ন দাখিল করার সাথে সাথে আচরন বিধি লংঙ্খন করে প্রচার -প্রচারনা চালাচ্ছেন তাতে সুষ্ট নির্বাচন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।  

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

জুলাই ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুন    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১