July 27, 2017

নতুন মন্ত্রী পরিষদ গঠন নিয়ে আশায় বুক বেঁধেছে দক্ষিণাঞ্চলবাসী

--- ১০ জানুয়ারি, ২০১৪

images

লিটন বাশার ॥ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন মন্ত্রী পরিষদের কারা ঠাই পাচ্ছেন তা নিয়ে দক্ষিনাঞ্চলের সর্বত্রই চলছে নানান আলোচনা। বিশেষ করে দক্ষিনাঞ্চলের নেতারা এবার কে কে মন্ত্রী পরিষদে থাকছেন তাই হচ্ছে আলোচনার মূল বিষয় বস্তু। নতুন মন্ত্রী পরিষদ নিয়ে জল্পনা- কল্পনার মাঝে উঠে আসছে বিগত ৫ বছরের বঞ্চনার কথা।

বিগত সংসদ নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের ২১ টি আসনের মধ্যে ১৯ টি আসনে মহাজোট প্রার্থীরা জয় লাভ করেছিল। নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রী পরিষদে দক্ষিনাঞ্চলের কোন নেতা ঠাই পায়নি। শুরুতে পটুয়াখালী -৪ আসনের এমপি মাহবুবুর রহমানকে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী করা হয়। একই জেলার সাংসদ আ,স,ম ফিরোজকে জাতীয় সংসদের হুইপ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে মন্ত্রী সভা রদ-বদল করার সময় পটুয়াখালী-১ আসনের এমপি এ্যাডভোকেট শাহজাহান খানকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী করা হয়। পটুয়াখালী জেলার মধ্যে প্রতিমন্ত্রী মদমর্যাদার ৩ নেতার মঝেই সীমাবদ্ধ হল ক্ষমতার স্বাধ।  দক্ষিনাঞ্চলের প্রভাবশালী এমপি ও অভিজ্ঞ রাজনীতি বিদদের মধ্যে কেউ মন্ত্রী পরিষদে ঠাই না পাওয়ার কারনে এ অঞ্চলের মানুষের আশা- আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটেনি। পদ্মা সেতু সহ নানান প্রকল্প শুধু স্বপ্নই থেকে গেছে। বিশেষ করে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায় হতাশ হয়েছে এ অঞ্চলের কয়েক কোটি মানুষ। ভোলার গ্যাস কাজে লাগাতে না পারা ও পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটাকে নিয়ে দক্ষিনাঞ্চলবাসীকে যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল তা অধোরাই থেকেই গেছে। সেই ব্যার্থতা ও হতাশা কাটিয়ে নতুন সরকারের কাছে নতুন আশায় বুক বাধছে এ অঞ্চলের কয়েক কোটি মানুষ। এখানকার মানুষের ধারনা  যারা অতীতের মন্ত্রী পরিষদে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন সেইসব বর্ষিয়ান অভিজ্ঞ  নেতাদের এবার প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রী সভায় অন্তভূক্ত করবেন। আর অভিজ্ঞ নেতারা মন্ত্রী পরিষদে ঠাই পেলে এ অঞ্চলের কাঙ্খিত উন্নয়ন হবে এমন আশায়-ই বুক বেঁধেছেন এ অঞ্চলের সাধারন মানুষ।

ইতোমধ্যে মন্ত্রী হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় উঠে আসছে তাদের মধ্যে আমির হোসেন আমু , তোফায়েল আহমেদ ও আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর কথা শোনা যাচ্ছে সর্বত্র । দক্ষিনাঞ্চলের এই ৩ বর্ষিয়ান নেতার মধ্যে আমু ও তোফায়েল বর্তমান অন্তবর্তী কালীন সরকারের মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন।  এই তিন নেতা ব্যতিত যাদের মন্ত্রী বা মন্ত্রী পদমর্যাদায় অর্ন্তভূক্ত হওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে সাবেক চীফ হুইপ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র কথা শোনা যাচ্ছে। ১৯৯৬ সালে হাসানাত ছিলেন চীফ হুইপ। বাকী ৩ নেতা গুরুত্বপূর্ন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর গঠিত আওয়ামী লীগের মন্ত্রী পরিষদে এরা কেউ অন্তুভূক্ত হননি।  এবার অভিজ্ঞ এ সব নেতারা মন্ত্রী পরিষদে ঠাই পেলে দক্ষিনাঞ্চলের মানুষের হতাশা দূর হবে এবং কাঙ্খিত উন্নয়ন হবে এমনটাই মনে করছেন অবহেলিত এ অঞ্চলের রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে সাধারন মানুষ পর্যন্ত। প্রভাবশালী এ চার নেতার বাইরে দক্ষিনাঞ্চলের নতুন মুখ হিসাবে যাদের প্রতিমন্ত্রী বা সম পদমর্যাদার পদে ঠাই পাওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে সাবেক সিটি মেয়র ও বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত হোসেন হিরন ও ভোলা – ৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল- ইসলাম জ্যাকবের নাম শোনা যাচ্ছে।

মন্ত্রী পরিষদ গঠন নিয়ে আশাবাদী এ অঞ্চলের বিভিন্ন স্তরের লোকজনের সাথে আলোচনা করে একই রকম তথ্য পাওয়া গেছে। বরিশাল চেম্বার অব কর্মাসের সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু জানান- গত ৫ বছর এ অঞ্চলের নেতারা কেউ মন্ত্রী না থাকায়  কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি। এবার আশা করছি অভিজ্ঞ ও পুরানো নেতারা মন্ত্রী পরিষদে ঠাই পাবেন। এ অঞ্চলের উন্নয়নের স্বার্থেই এবার মানুষের দাবী শীর্ষ নেতাদের মন্ত্রী পরিষদে অন্তভূক্ত করা।
 মেট্টোপলিটন চেম্বার অব কর্মাসের সভাপতি নিজাম উদ্দিন জানান- বর্ষিয়ান নেতাদের মন্ত্রী পরিষদে অন্তভূক্ত করলে অবহেলিত এ অঞ্চলের উন্নয়ন হবে এবং সাধারন মানুষের ভাগ্যের চাকা ঘুরবে।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক সংগঠন সম্বনয় পরিষদের সভাপতি নাট্যজন সৈয়দ দুলাল জানান- ১৯৯৬ সালে এ অঞ্চলের বর্ষিয়ান ও অভিজ্ঞ নেতারা সরকারের নীতি নির্ধারনী পর্যায়ে ছিলেন বলেই গাবখান সেতু ও দোয়ারিকা – শিকারপুর সেতু নির্মান, বরিশাল শিক্ষাবোর্ড স্থাপনসহ ভোলার গ্যাস দিয়ে পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সে তুলনায় গত ৫ বছর আওয়ামী লীগের কাছ থেকে মানুষ কাঙ্খিত উন্নয়ন পায়নি।

বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ জানান- পদ্মা সেতু তো দূরের কথা বরিশাল- গোপালগঞ্জ সড়কটির কাজ পর্যন্ত ৫ বছরের সম্পন্ন করতে না পারায় হতাশ হয়েছে এখানকার মানুষ। এবার নিশ্চয়ই অভিজ্ঞ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হলে এ সব কাঙ্খিত উন্নয়ন হবে এবং মানুষের হতাশা দূর হবে। সাধারন মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। এ অঞ্চলের মানুষের স্বার্থেই বর্ষিয়ান নেতাদের মন্ত্রী পরিষদে অর্ন্তভূকত্ করার দাবী উঠেছে বলে সকলেই মন্তব্য করেন।  

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

জুলাই ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুন    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১