October 22, 2017

যুবদল নেতা ঝাড়–দার শাহীনের সাথে ওসি শাখাওয়াতের কিসের সম্পর্ক!

--- ১৫ জানুয়ারি, ২০১৪

নিত্য দিনই নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশ নিরহ লোকজনকে ধরে নিয়ে গাড়ি- ভাংচুর সহ বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার আসামী হিসাবে কারাগারে পাঠাচ্ছে। অথচ ১৪ নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারন সম্পাদক জিয়াউল হাসান শাহীন ওরফে ঝাড়–দার শাহীনকে তার ব্যবসায়ীক পার্টনারকে হত্যা পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেফতারের পর বাচিয়ে দিয়েছে কোতয়ালী পুলিশ। এর আগেও ডা: আরিফ হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত যুবদল নেতা শাহীনকে ওসি শাখাওয়াত ফাইনাল রিপোর্টের মাধ্যমে রক্ষা করেছিলেন।

নগরীর রুপাতলী এলাকায় দালাল নির্ভর নাম স্বর্বস ডায়গনষ্ঠিক ল্যাব শেফা’র মালিক পরিচয় দানকারী ছাড়–দার শাহীন গত বছর ঐ ল্যাবের চিকিৎসক ডা: আরিফুর রহমান কে পিটিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় মামলা হলে শাহীন উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন। ল্যাবটি অবৈধ হওয়ায় তা বন্ধ করতে অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কিন্ত চতুর শাহীন রাতারাতি ল্যাবের সাইন বোর্ড পরিবর্তন করে নাম দেয় এশিয়া।

অপকর্ম বহাল রেখেই সাইন বোর্ড স্বর্বস ল্যাবের টাকায় ওসি শাখাওয়াত কে ম্যানেজ করে অতি সম্প্রতি মামলার ফাইনাল রিপোর্ট প্রদানের মাধ্যমে নিজেকে রক্ষা করেন। বিএম এবং স্বাচিপ নেতাদের আন্দোলনের মুখে চিকিৎসক হত্যাকান্ড থেকে রক্ষা পেয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে যুবদল নেতা শাহীন। সে নতুন করে তার ব্যবসায়ীক পার্টনার আমিরুল ইসলামকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এ জন্য সে ঝাউতলার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারী মন্টুর সাথে ৫০ হাজার টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তি অনুযায়ী মন্টুকে দু’টি ধারারো অস্ত্র তৈরী করে দেয়। পুলিশ পেশাদার ছিনতাইকারী মন্টুকে মঙ্গলবার রাতে আদালত এলাকা থেকে আটক করে। তার কাছ থেকে উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনের রের্কডেই পাওয়া যায় শাহীনের সাথে চুক্তি অনুযায়ী আমিরুলকে খুন করার নানান কথপকথন। রাতে কৌশলে কোতয়ালী থানায় খবর দিয়ে ঝাড়–দার শাহীনকে হাজির করা হয়। তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ধারারো অস্ত্র তৈরী করতে যে দোকানে অর্ডার দিয়েছিল সেখানে অভিযান চালিয়ে ধারালো দু’টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। একই সাথে শাহীনের বিরুদ্ধে গ্যাসটার বাইন এলাকায় যানবাহন ভাংচুর, পুলিশের উপর হামলা সহ বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকান্ডে অর্থের যোগানদাতা হিসাবে চাঞ্চল্যকর তথ্য পায় থানা পুলিশ। কিন্ত সব কিছুই পাল্টাতে থাকে গতকাল বুধবার ভোরের আলো ফোটার পর থেকে। ঝাড়–দার শাহীনের গ্রেফতারের খবর পেয়ে গতকাল দুপুরে সাংবাদিকরা থানায় ছবি তুলতে গিয়ে থানা হাজতে শাহীনের কোন হদিস পায়নি।

ডিউটি অফিসারের কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানান- মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চিম্বময় বাবু তাকে ডিসি (সাউথ) স্যারের অফিসে নিয়ে গেছেন। উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নগরীর বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ন তথ্য আদায় করবেন এমন ধারনাই দেওয়া হয়েছিল সাংবাদিকদের । কিন্ত দুপুরে গড়িয়ে যাওয়ার পর দৃশ্যপট পুরোটাই পাল্টে যেতে থাকে। থানা পুলিশের লুকোচুরি ও শেষ পর্যন্ত ঝাড়–দার শাহীনকে যখন আদালতে প্রেরন করা হলো তখন জানা গেল মেট্টোপলিটন বিশেষ আইন ( বিএমপি এ্যাক্ট ) অনুযায়ী তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আজকে দিনের মধ্যেই যাতে শাহীন কারাগার থেকে মুক্তি পায় তার পাকা ব্যবস্থা করে দিয়েছে বিএমপি পুলিশ। অথচ যে আমিরুলকে হত্যার উদ্দেশ্যে এত পরিকল্পনা সেই আমিরুল গতকালই প্রানের ভয়ে বরিশাল ছেড়ে পালিয়ে গেছে। আমিরুল সাংবাদিকদের জানায় তার সাথে যে ডায়গনষ্ঠিক ল্যাবে শাহীনের অংশ রয়েছে তার পুরো টাকাই শাহীণ মেরে দিয়েছে। বিপুল টাকার জোরেই শাহীন ডাক্তার খুন থেকে শুরু করে সকল অপকর্ম করে পার পেয়ে যাচ্ছে বলে ল্যাবের আরো অংশীদাররা জানিয়েছে।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

অক্টোবর ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« সেপ্টেম্বর    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১