July 23, 2017

বরিশালে বেড়েই চলেছে ছাত্রলীগ-যুবলীগের টেন্ডার সন্ত্রাস

--- ২২ জানুয়ারি, ২০১৪

barisal-tendar-photo

শাহীন সুমন ॥ বরিশাল বিভাগের সরকারী-বেসরকারী দপ্তর গুলোতে উন্নয়ন মূলক কাজের দরপত্র আহবানের টন্ডার নিয়ে প্রতিনিয়িত  এসব দপ্তর গুলোতে ছাত্রলীগ যুবলীগ নেতা কর্মিরা জড় হয়ে সাধারন ঠিকাদারদের বিতাড়িত করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য টেন্ডার কাজে নিজেরাই সংঘর্ষে জড়িয়ে পরছে। ঘটছে প্রাই সময় সংঘর্ষের ঘটনা। উন্নয়ন মূলক কাজের দরপত্র বিক্রি ও টেন্ডার জমা নেয়ার দিন পর্যন্ত অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা থাকেন সর্বক্ষন আতংকে। যে কোন সময় সাধারন ঠিকাদার থেকে শুরু করে অফিস কর্মকর্তা কর্মচারীরাও ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা কর্মিদের হাতে প্রাই সময় হচ্ছে লাঞ্ছিত। প্রভাব শালীদের ছায়াতলে এসব ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতা কর্মিরা বিভিন্ন স্থানে হামলা, সংঘর্ষ চালিয়ে গেলেও তাদের অভিভাবকরা থাকেন নিরব। অধিকাংশ টেন্ডার জমাদেয়ার দিন আইন শৃঙ্খলা বাহীনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও ছাত্রলীগ-যুবলীগের সংঘর্ষের সময় নিরবতা পালন করে। এসব ঘটনায় কখনোই দায়ের হয়নী থানায় মামলা।

বিভিন্ন দপ্তর সূত্র জানাগেছে ২০শে জানুয়ারী সোমবার শিক্ষা ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাত কোটি টাকার কাজ ‘গুছ’ করার অভিযোগ উঠেছে বরিশালের ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কিছু নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। দরপত্র জমা দিতে গেলে সাধারণ ঠিকাদারদের বাধা দিয়ে নিজেদের মধ্যে ওই কাজ ‘গুছ’ করে নেন ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠনের নেতারা। ভুক্তভোগী একাধিক ঠিকাদার জানিয়েছেন, দরপত্র বিক্রির শেষ দিন রোববার পর্যন্ত ক্ষমতাসীন দলের যুবলীগ নামধারী সিজান বাহিনীর পাহাড়ার কারণে অনেক ঠিকাদারই সিডিউল ক্রয় করতে পারেননি। যারা কিনতে পেরেছেন তারা জমা দিতে গেলে ছাত্রলীগ সভাপতি জসিম উদ্দিন ও সিজান বাহিনীর বাধার মুখে জমা দিতে পারেনি। শিক্ষা ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ কামরুল ইসলাম জানান, দপ্তরের ভেতর বসে কেউ দরপত্র কেনা বা জমায় বাধা দেয়নি। তবে দপ্তরের বাহিরে কিছু হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঐ দিন সকাল ১১ টায় ভাটার খালস্থ্য শিক্ষা ও প্রকৌশল অধিদপ্তরে দরপত্র জমা দিতে গেলে ঠিকাদারদের গেটেই আটকে দেয় ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরা। এমনকি ১৭ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলামকেও বাধা দেয় বিএম কলেজ ভিপি মঈন তুষার গ্র“পের মিলন, জুবায়ের আলম। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষা ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাত কোটি টাকার কাজ ‘গুছ’ করেছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের তিনটি পৃথক গ্র“প। আর এ ‘গুছ’ প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দেন যুবলীগের সিজান, মাহামুদুল হাসান বাবু ও মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি জসিম উদ্দিনের বাহিনী। এ তিনটি গ্র“পের বাহিরের কোন ঠিকাদার এ কাজের দরপত্র জমা দিতে পারেননি। শিক্ষা ও প্রকৌশল অধিদপ্তর বরিশাল অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল বাসার জানান, বরিশাল ও ঝালকাঠিতে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের জন্য গত (ডিসেম্বর) মাসে ৬ কোটি ৭১ লাখ টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়।

১১ গ্র“পের এ দরপত্র জমাদানের শেষ দিন ছিলো ২০জানুয়ারী সোমবার। তিনি দাবি করেন, তার কার্যালয়ে প্রবেশে কাউকে বাধা দেয়া হয়নি। তবে নেপথ্যে দপ্তরের বাহিরে কিছু হয়েছে কিনা তা তাদের দেখার বিষয় নয় বলে জানান নির্বাহী প্রকৌশলী। এদিকে জসিম উদ্দিন সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কাজ না পেয়ে কিছু ঠিকাদাররা মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছেন। এছাড়া গত ২১শে জানুয়ারী মঙ্গলবার বরিশালে টেন্ডার বাগিয়ে নেয়াকে কেন্দ্র করে যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে জখম করেছে বিএম কলেজ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার দুপুর দুইটায় নগরীর জর্ডন রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার সোহেব আহাদ সেজানকে (৩০) উদ্ধার করে বরিশাল শেরে-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর দুইটার দিকে সেজান এবং বিএম কলেজ ছাত্রলীগের মঈন তুষার গ্র“পের মধ্যে টেন্ডার ভাগাভাগি নিয়ে বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে তুষার গ্র“পের নেতাকর্মীরা সেজানের ওপর চড়াও হয়। এতে সেজান গ্র“প বিক্ষুদ্ব হয়ে উঠলে তাদের ওপর হামলা চালায় তুষার গ্র“পের জুবায়ের আলম, নুর আল আহাদ সাঈদী, ফয়সাল আহম্মেদ মুন্নাসহ ৭/৮জন। এসময় সংসদ সদস্য শওকত হোসেন হিরনের ভাগ্নে পরিচয়দানকারি সেজানকে পিটিয়ে জখম করা হয়।  খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল ও ঝালকাঠিতে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের জন্য ১১টি গ্র“পের ৬কোটি ৭১ লাখ টাকার দরপত্র আহ্বান করে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। এর মধ্যে একটি গ্র“পের ৬১লাখ টাকার কাজ নাহিদ এন্টারপ্রাইজের নামে বাগিয়ে নেয় তুষার গ্র“প। এনিয়ে তুষার এবং সেজান গ্র“পের সাথে দ্বন্ধের সূত্রপাত হয়। হামলার শিকার সেজান জানান,  টেন্ডারবাজিতে বাধা দেয়ায় তুষার তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে তার ওপর হামলা চালিয়েছে।

এ অভিযোগ অস্বীকার করে তুষার গ্র“পের নুর আল সাঈদী বলেন, বেলা ১২টার দিকে বিএম কলেজ ছাত্রলীগের কর্মী সোহেল, রাজু ও রিমন সিএস এর জন্য ৯৮হাজার টাকা জমা দিতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়ে যাওয়ার পথে সেজান তাদের বাধা দেয় এবং টাকা ছিনিয়ে নেয়। এসময় তাদের ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা সেজানকে আটক করে গণধোলাই দিয়েছে। এছাড়াও কিছুদিন পূর্বে বরিশাল পাবলিক হেলথ ডিভিশন এর ৪১ কোটি টাকার একটি টেন্ডার নিয়ে ছাত্রলীগের দু’টি গ্র“পের মধ্যে বাকবিতান্ডা সৃষ্টি হয়। পরবর্তিতে কোতয়ালী পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। রাজনৈতিক ভাবে কোন ঘটনা সৃষ্টি না হলেও প্রাই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে টেন্ডারের কাজ নিজেদের দখলে নেয়ার জন্য। প্রভাব শালী নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকায় এদের ব্যাপারে আনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন কোন ভূমিকা পালন করছে না। বিরোধী দলের নেতা কর্মিদের মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে জতটাই থাকেন মারমুখি, ছাত্রলীগ-যুবলীগের সংঘর্ষের সময় থাকেন ততটাই প্রশাসন নিরব। এসব সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় মামলা হওয়াতো দূরের কথা একটি সাধারন ডাইরী পর্যন্ত করেনা প্রশাসন।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

জুলাই ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুন    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১