July 23, 2017

বরিশালের ফাইভ মার্ডার মামলায় দুই সহোদরের মৃত্যু দন্ড

--- ২৮ জানুয়ারি, ২০১৪

barisal-5-mardar

শাহীন হাফিজ ॥ বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের আলোচিত ফাইভ মার্ডার মামলার রায়ে নিহত তানজিয়ার সহদর দুই ভাই পুলিশ সদস্য (অব:) শাহজাহান বৈরাগী ও শহিদুল ইসলাম ওরফে সাহেদ বৈরাগীকে মৃত্যু দন্ডাদেশ দিয়েছে আদালত । একই সাথে ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে ।

অপর আসমী মো: সুলতান খান, মো: কাইউম খান, আবুল বাশার ওরফে বাদশা খানকে যাবজ্জিবন কারাদন্ডাদেশ ও একই সাথে ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে ।
এদিকে মামলায় আনিত অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় ভাসানচর ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান মো: নজরুল ইসলাম চুন্নু, ফরহাদ হোসেন লাভু, আনিচ মাতুব্বর, জামাল চৌকিদার ও মো: করিম হাওলাদারকে বেকসুর খালাস প্রদান করেছে।

মঙ্গলবার বেলা ১২ টায় জনাকীর্ন আদালতে বরিশালের প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতের বিচারক মো: মতিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। ৫৪ জন স্বাক্ষীর মধ্যে ৪২ জনের স্বাক্ষগ্রহণ শেষে আদালত উপরোক্ত দন্ডাদেশ দেন। রায় ঘোষণাকালে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামী মোঃ শাহজাহান বৈরাগী  ও খালাস প্রাপ্ত মো: করিম হাওলাদার ছাড়া সকলে উপস্থিত ছিল আদালতে।

আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এনায়েত পীর খান জানান, এ রায়ে তাঁরা সন্তুস্ট নয়। উচ্চ আদালতে আপীল করার প্রস্ততি নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) গিয়াস উদ্দিন কাবুল বলেন, এ রায় ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এ থেকে রাষ্ট্রে অপরাধমূলক কর্মকান্ড রোধ পাবে।

মামলার রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে , ২০০৮ সালের ৩০ জুন রাত থেকে পরদিন ভোর ৫ টার মধ্যে মেহেন্দিগঞ্জের ভাষানচর ইউনিয়নের খলিশার উত্তরপাড় এলাকার মো: জাহাঙ্গীর হোসেন বেপারীর বসতঘরের সিঁধ কেটে ও দরজা ভেঙে জাহাঙ্গীরের স্ত্রী তানজিয়া বেগম, মেয়ে আঞ্জুমান, সাথী, জান্নাত ও ছেলে ফেরদৌসকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ লাশগুলো উদ্ধার করে। তাৎক্ষনিক নিহতদের কোনো স্বজন না থাকায় এলাকার চৌকিদার নুরুজ্জামান বাদি হয়ে অজ্ঞাতদের আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এই মামলার তদন্তের একপর্যায়ে বেরিয়ে আসে নিহত তানজিয়ার ভাইদের সঙ্গে বাড়ির শরিকদের বিরোধ ছিল। তাই প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে তানজিয়ার আপন দুইভাই পুলিশ সদস্য শাহজাহান বৈরাগী ও শহিদুল ইসলাম ওরফে সাহেদ বৈরাগী ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের নিয়ে ওই হত্যাকান্ড সংঘটিত করে। পরে শাহজাহান ও সাহেদকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়া হলে হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটিত হয়।
২০০৯ সালের ১৯ মার্চ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন কাজীরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই আনোয়ার হোসেন তদন্ত শেষে গ্রেফতারকৃত শাহজাহান, সাহেদ ছাড়াও ফরহাদ হোসেন লাবু, ভাষানচর ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম চুন্নু, আবুল বাশার ওরফে বাদশা খাঁ, আনিচ মাতুব্বর, জামাল চৌকিদার, করিম হাওলাদার, সুলতান খান ও কাইউম খানকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ৫৪ স্বাক্ষীর মধ্যে ৪১ জনের স্বাক্ষী গ্রহণ শেষে মঙ্গলবার আদালতের বিচারক এরায় ঘোষনা করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন পিপি গিয়াস উদ্দিন কাবুল। আসামী পক্ষে এনায়েত পীর খান ।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

জুলাই ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুন    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১