September 21, 2017

বরিশালে দেবরের হামলায় আহত গৃহবধুর মৃত্যু

--- ২৮ জানুয়ারি, ২০১৪

barisal-hafija

টানা ৫২ দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটে পাঞ্চা লড়ে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলো বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকার গৃহবধু ও দুই সন্তানের জননী হাফিজা বেগম বিলকিছ (৩০)।

নিহত হাফিজার স্বামী আবদুল হালিম শরীফ সৌদি প্রবাসী। সে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকার শের-ই বাংলা সড়কের শরীফ ম্যানশনে বসবাস করতো।

সূত্রমতে, ২০১৩ সালের ৭ ডিসেম্বর রাতে আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরধরে নিহত হাফিজার দেবর আলম শরীফ তাকে এলোপাথারী ভাবে কুপিয়ে জখম করে। এ ঘটনায় ১২ ডিসেম্বর একটি মামলা দায়ের করা হলেও অভিযুক্তকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি নগরীর বিমান বন্দর থানা পুলিশ।

নিহত হাফিজার ভাই বশির হাওলাদার জানান, হাফিজার একটি আঙ্গুল শরীর থেকে বিছিন্নকরাসহ তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথারী ভাবে কুপিয়ে জখম করা হয়। বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর পরদিন সকালে  হাফিজাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে অবস্থার আরো অবনতি হলে পরবর্তীতে হাফিজাকে ওই হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটে রাখা হয়। সেখানে টানা চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় আজ মঙ্গলবার সকালে হাফিজাকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত্যু বলে ঘোষনা দেয়। মঙ্গলবার দুপুরে হাফিজার লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। হাফিজার লাশ বরিশালে নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

বরিশাল নগরীর মথুরানাথ পাবলিক স্কুলের ৯ ম শ্রেনী পড়–য়া নিহত হাফিজার ছেলে ইমন শরীফ জানান, বাবার (আবদুল হালিম শরীফ) সাথে চাচা আলম শরীফ বিদেশে থাকতো। বছর কয়েক আগে আলম শরীফ দেশে ফিরে বিভিন্ন অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়ে তার জমানো টাকা শেষ করে ফেলে। এক পর্যায় আমার বাবার দেয়া টাকা দিয়ে সে তার সংসার চালাতো। এ নিয়ে প্রায় আমার মায়ের (হাফিজা) সাথে ঝগড়া হতো চাচা আলম শরীফের। এরই জের ধরে গত ৭ ডিসেম্বর রাতে চাচা আলম শরীফের সাথে মায়ের ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায় চাচা মাকে এলোপাথারী ভাবে কুপিয়ে জখম করে। এতে আমার মায়ের একটি আঙ্গুল কেটে ফেলা হয়।

১৪ বছর বয়সী কিশোর ইমন শরীফ আরো জানান, মাকে জখম করার সময় আমি আমার চাচাকে জাপটে ধরা চেষ্ঠা করি। এসময় সে আমাকে ছুড়ে ফেলে পালিয়ে যায়। সে থেকে চাচার আর কোন সন্ধান পাই না। পরে আমার মামা বশিরকে খরব দিলে সে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় মাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাকে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

এদিকে স্ত্রীর জখম হওয়ার খরব পেয়ে জরুরী ভিত্তিতে স্বামী আবদুল হালিম শরীফ ও তার ছেলে আবদুল্লাহ শরীফ দেশে ফিরে আসে। একপর্যায়ে হাফিজার ব্যয়বহুল চিকিৎসার  খরচের টাকা জোগাড়ে পুনরায় ফের বিদেশ পুত্র আবদুল্লাহকে নিয়ে বিদেশ যায় আবদুল হালিম। কিন্তু গতকাল হাফিজার মৃত্যুর সংবাদে তারা আবারও দেশে ফিরে আসার প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানান নিহত হাফিজার ভাই বশির হাওলাদার।

অপরদিকে জখমের ঘটনার ৫ দিন পর ১২ ডিসেম্বর হাফিজার পিতা মফিজ উদ্দিন হাওলাদার বাদী হয়ে আলম শরীফকে আসামী করে বরিশাল বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তের ভার দেয়া হয় এস আই সুলতান কে। কিন্তু ঘটনার ৫২ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত আলম শরীফকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। উপরন্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত কাজে গাফেলতির অভিযোগ উঠেছে।

তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দাবী করেন, হাফিজার মৃত্যুর সংবাদ শুনেছি, তাই আদালতে হত্যা মামলার জন্য আপিল করা হবে। তিনি জানান, মামলার পর থেকে অভিযুক্তকে ধরতে উত্তর কড়াপুড়স্থ হাফিজার শ্বশুর বাড়ীসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। তিনি আরো বলেন, হফিজার এক বোন হাসিনাকে তার ভাসুর আনোয়ার শরীফ বিয়ে করেছে। তাই হাসিনা নিজ সংসারের সুখের জন্য এ মামলাটি নিস্পত্তির চেস্টায় পুলিশের কাছে ধর্না ধরেছিলো। কিন্তু পুলিশ তাতে কর্ণপাত করে নি।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

সেপ্টেম্বর ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০