September 21, 2017

বর্নাঢ্য আয়োজনে বরিশালে বসন্ত বরন

--- ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

Barisal-Pic-13-02=01

আসমা আক্তার ॥ আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে।’ বসন্ত এসে গেছে শীত শেষে। আজ ফাল্গুনের প্রথম দিন। বসন্ত শুরু হলো আজ। বসন্ত ঋতুরাজ। ষড়ঋতুর মধ্যে প্রকৃতির রাজ্যের সিংহাসন তার জন্য নির্ধারিত। বসন্তের আগমন শীত শেষে। শীতের স্থবিরতা-জড়তা কাটিয়ে উত্তুরে হাওয়ার বদলে আসে দখিনা মলয়। বসন্তের আগমন বার্তা ঘোষিত হয় এর মধ্যে। এর সঙ্গে শীতের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে আসে কোকিল। সে এসে তার কুহু ডাকের ভেতর দিয়ে যেন তারস্বরে শীতের পূর্ণ অবলম্ব এবং ঋতুরাজের আগমন ঘোষণা করে দেয় সবখানে। শুরু হয় বসনত্মের অভিষেক। আজ সেই দিন। গাছে গাছে নতুন পাতা জন্ম নেবে। ফুল ফুটবে গাছে গাছে। প্রকৃতি সাজবে ফুলের সাজে, ‘আহা আজি এ বসনত্মে, কতো ফুল ফুটে, কতো বাঁশি বাজে, কতো পাখি গায় ….।’

বসন্ত জাগরণ নিয়ে আসে গোটা প্রকৃতির রাজ্যে। গাছপালায় নতুন পাতা গজানো শুরম্ন হয়। শুরম্ন হয় ‘ফুল ফোটানোর খেলা।’ প্রাণিজগতে শুরম্ন হয় প্রাণচাঞ্চল্য। কোকিল কুহু কুহু সুরে বন-বাগান মুখরিত করে তোলে। অন্যান্য পাখিও যেন জড়তা কাটানোর আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে। প্রকৃতিরাজ্যে তাই দেখা যায় এই রূপ : আহা, আজি এ বসনত্মে। কতো ফুল ফুটে। কতো বাঁশি বাজে/কতো পাখি গায়।’
কবির কথায় : ফাল্গুনে বিকশিত কাঞ্চন ফুল/ডালে ডালে পুঞ্জিত আম্রমুকুল। চঞ্চল মৌমাছি গুঞ্জরি গায়/ বেণুবনে মর্মরে দৰিণ বায়।’ এটা আমাদের বাংলাদেশের রূপ। আম ফলের রাজা। আমগাছ আমাদের জাতীয় গাছ। এখন দেখা যাবে এখানে-ওখানে আম গাছে ‘ডালে ডালে পুঞ্জিত আম্রমুকুল।’ আমরা গাই : ‘ওমা ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রাণে পাগল করে’ এ বাংলাদেশের রূপ। এ সুজলা সুফলা শস্য-শ্যামলা বাংলাদেশের প্রকৃতি। আমরা এ প্রকৃতি নিয়ে গর্ব করি। এই প্রকৃতির যতœ করব আমরা।

বসন্ত-উৎসবের প্রচলনও নূতন নয়। আমাদের দেশে শুধু নয়, প্রাচীন গ্রীসেও বর্ণাঢ্য বসন্ত-উৎসবের বিবরণ পাওয়া যায় গ্রীক সাহিত্যে। বাংলা ভাষার দুই প্রধান কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকর্মের একটি উল্লেখযোগ্য অংশই জুড়িয়া আছে বসন্তের স্তুতি। তাহাদের রচনায় বসন্ত হইয়া উঠিয়াছে যুগপৎ প্রেম, বিরহ ও যৌবনের প্রতীক। রবীন্দ্রনাথের বসন্তের গানগুলি স্থায়ী আসন করিয়া নিয়াছে বাঙালি চিত্তে। এই গানগুলি ছাড়া এখন বসন্ত-বরণের কথা ভাবাই যায় না। আর যৌবন ও বিদ্রোহের কবি নজরুল নিজেই যেন এক অনন্ত বসন্তের প্রতীক। সর্বপ্রকার কূপমণ্ডূকতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ আর নূতনের আবাহনের মধ্য দিয়া তিনি মূলত বসন্তেরই জয়গান গাহিয়াছেন। বস্তুত এই বিদ্রোহ আর আবাহনই হইল বসন্তের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। সবার উপরে বসন্ত প্রেম বা ভালোবাসার ঋতুও বটে। ঋতুসমাজে বসন্তের অনন্যতার মূলে রহিয়াছে অনির্বচনীয় এক ভালোবাসার আকুলতা। তবে ইহা কেবল তরুণ-তরুণী বা নারী-পুরুষের মধ্যে সীমিত নহে। কারণ প্রকৃতিজাত এই ভালোবাসার বোধ একদিকে যেমন সর্বমানবে ব্যাপ্ত, অন্যদিকে তেমনি বিশ্বপ্রকৃতির সহিতও ইহার সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্যই বলা চলে। বলা বাহুল্য যে, হিংসা, হানাহানি, সংঘাত এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের ভয়াবহ উদ্বেগপীড়িত বর্তমান বিশ্বে মানুষে মানুষে শুধু নয়, এমনকি প্রকৃতি ও মানুষের মধ্যে শান্তি ও ভারসাম্যপূর্ণ সহাবস্থানের বাতাবরণ সৃষ্টিতে ভালোবাসার চাইতে কার্যকর হাতিয়ার আর কিছুই হইতে পারে না। সর্বোপরি, যাবতীয় সৃষ্টিশীলতার উৎস হইল এই ভালোবাসা। অতএব, বসন্তকে উপলক্ষ করিয়া যুগ যুগ ধরিয়া দেশে দেশে যে উৎসব চলিয়া আসিতেছে তাহার তাৎপর্যকে খাটো করিয়া দেখিবার কোনো অবকাশ নাই। জরা ও হতাশার বিপরীতে ইহা মূলত অদম্য জীবনেরই জয়গান। আমরা বসন্তকে স্বাগত জানাই। কামনা করি, বসন্তের আগমনে প্রকৃতির মতোই মানুষের হূদয়ও সবপ্রকার কলুষমুক্ত হউক। অবসান হউক হিংসা, হানাহানি ও কূপমণ্ডূকতার।

পহেলা ফাল্গুন ও ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করে নিতে বরিশালে আয়োজন করা হয় বসন্ত বরণ অনুষ্ঠান। দিনটি পালনে সকালে বরিশাল সরকারী মহিলা কলেজের শিক্ষার্থিরা আয়োজন করে বর্নাঢ্য বসন্ত বরণ অনুৃষ্ঠান। হলুদ রঙ্গের শাড়ি পড়ে নেচে গেয়ে আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে দিনটিকে বরন করে নেয় এ কলেজের শিক্ষার্থিরা । এছাড়া বিকেল তিনটায় বরিশাল জগদ্বীশ স্বারশত বালিকা বিদ্যালয়ে বসন্ত বরন উৎসবের আয়োজন করা হয়। উদিচী ও বরিশাল নাটক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

সেপ্টেম্বর ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০