July 23, 2017

আজ ভালোবাসার দিন

--- ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

Valentines-Day-SMS-Images

আসমা আক্তার ॥
মায়ের গর্ভ থেকে বের হয়ে প্রতিটি মানুষ বেড়ে ওঠে এক একটি ভিন্ন পরিবেশে। আপন গন্ডিতে সে একে চলে কোন জীবন রেখা। তাতে সে আলীঙ্গন করে অনেক বিপদ-আপদকে, অনেক খুশী আনন্দকে। আর এই পথ চলায় প্রতিটি মানুষ ভালোবাসে অন্য অনেক মানুষকে। ভালোবাসে বাবা-মাকে, ভাই-বোন, আত্মিয়-স্বজনকে, বন্ধু-বান্ধবকে। এর মধ্যে অনেক সম্পর্ক হয় ক্ষণস্থায়ী। আবার এমন অনেক সম্পর্ক আছে যা কেবল ভালোবাসাকে পুঁজি করে মনের মাঝে আঁচড় কেটে চলে সারা জীবন। একটা সময় ছিলো যখন ভালোবাসা প্রকাশে যেমন অনেক ইতস্ততা ছিলো, তেমনি সামাজিক ভাবে ব্যাপারটি এড়িয়ে চলাই ছিলো স্বাভাবিক। কিন্তু বর্তমানে মনের কথা বলতে একরকম ব্যকুল তরুন প্রজন্ম। তাই তো এখন ঘটা করে পালিত হয় ভালোবাসা দিবস। জগতের সবকিছুকে পেছনে ফেলে মানুষ এখন ভালোবাসার পেছনের ছুটতে প্রস্তুত।

দিবসের সূচনা

ভালোবাসা দিবসের সূচনা ঘটে রোমান সম্রাজ্যের বর্ণময় দিনগুলিতে। প্রাচীন রোমে, ১৪ ফেব্র“য়ারী জুনো দেবীর সম্মানে ছুটি পালন করা হতো। এই জুনো ছিল সমস্ত রোমান দেব-দেবীদের রাণী। রোমানরা তার পূজো করত নারী আর বিয়ের দেবী হিসেবে। তারপরের দিন ১৫ ফেব্রুয়ারি পালিত হত লুপারকালিয়া নামক দেবতার নামে বিরাট এক ভোজ সভার। এই দেবতা সবার কাছে স্বামীত্ব, উর্বরতা, শস্য সামগ্রীর রক্ষাকর্তা, শক্তিশালী শিকারী হিসেবে পূজনীয় ছিল। কালক্রমে এই দুই উৎসবের সমন্বয়ে এবং কিছু কিছু রীতির পরিবর্তনের মাধ্যমে ভালোবাসা দিবসের উদ্ভব হয় বলে বোদ্ধাদের ধারণা। তখনকার দিনে তরুণ-তরুণীদের আলাদা করে রাখার জন্য খুব কড়াকড়ি নিয়ম অনুসরণ করা হতো। যে উপলক্ষে তারা কাছাকাছি আসতে পারতো সেটা হচ্ছে লুপারকালিয়ার সম্মানে আয়োজিত উৎসবের টোকেন পর্বে। মেয়েরা পে তাদের নাম লিখে একটি পাত্রের মধ্যে রেখে দিতো। তরুণরা সেই পাত্র থেকে লটারীর মতো করেি প তুলে নিতো। যে মেয়ের নাম তার হাতে উঠতো ঐ মেয়ের সাথেই সে উৎসবের পুরো সময় কাটাতে পারতো। অনেক সময় তাদের একত্রে থাকা পুরো বছর জুড়ে চলতে থাকতো। এর কোন এক সময়ে তাদের মধ্যে প্রেম জন্ম নিলে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতো।
সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়ামের আমলে রোমান সম্রাজ্য অনেক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। নিষ্ঠুর প্রকৃতির এই সম্রাটের অধীনে কেউ যুদ্ধে যেতে চাইতোনা। তিনি এর কারণ হিসেবে ধরে নেন পরিবার আর স্ত্রীর প্রতি যুবকদের ভালোবাসাকে। এ কারণে তিনি রোমে সব ধরনের বিয়ে এবং বাগদান নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন ছিলেন সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়ামের আমলে রোমের একজন যাজক। ভালোবাসার প্রতি তীব্র অনুরাগী যাজক ভ্যালেন্টাইন সম্রাটের অগোচরে রোমান সৈন্য বাহিনীর সদস্যদের বিয়ে পড়াতে লাগলেন। এই পবিত্র কাজ সম্পাদনের অপরাধে তিনি গ্রেফতার হন। তাকে রোমান বিচারালয়ে পাঠানো হয়। সেখানে তাকে গদার আঘাতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয় এবং তার মাথা কেটে রাখার হুকুম জারি করা হয়। ১৪ ফেব্রুয়ারি তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। জেলে থাকাকালীন সময়ে ভ্যালেন্টাইন জেলারের মেয়ের অন্ধত্ব দূর করেন। মেয়েটি তার প্রতি গভীর প্রেমে আসক্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু তার শোচনীয় পরিনাম হওয়া থেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়। মৃত্যুর আগে ভ্যালেন্টাইন তাকে শেষ একটি বার্তা প্রেরণে সক্ষম হন। তাতে লেখা ছিল ‘ফ্রম ইউর ভ্যালেন্টাইন’। আর এখান থেকেই ভালোবাসা দিবসের যাত্রা শুরু হয়। প্রাচীন রোমানে লুপারকালিয়া আর জুনোর সম্মানে আয়োজিত উৎসবে দেব-ভক্তির পাশাপাশি কামক্রীড়ার প্রচলনও খুব বেশি ছিল। লটারীরর মাধ্যমে নারী-পুরুষ জুটিবদ্ধ হয়ে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতো। সমাজকে এই ভ্রষ্টতার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘ভালোবাসা দিবস’ হিসেবে পালন করার আহ্বান জানানো হয়। যদিও লুপারকালিয়া উৎসবের লটারী প্রথার পুরোপুরি বিলোপ সাধন করা তখনও করা যায়নি। তবে যাজক ভ্যালেন্টাইনের প্রতি সম্মান প্রদশনার্থে তখন লটারী করা হতো শুধুমাত্র গিফট বিনিময়ের জন্য ভ্যালেন্টাইন নির্বাচনের জন্য। অষ্টাদশ শতাব্দি পর্যন্ত এই প্রথা একটানা চলতে থাকে। তারপরেই এতে খটকা লাগে। দু-পক্ষের গিফট বিনিময় প্রথা উঠে যায়। গিফট দেওয়াটা শুধুমাত্র পুরুষের উপর গিয়ে বর্তে। কিন্তু পুরুষরাও দিনে দিনে এই লটারী উত্তোলনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ে। কেননা তারাও অপরিচিত নারীদের সাথে গিফট বিনিময়ে অনীহা দেখানো শুরু করে। এরপর লটারীর মাধ্যমে ভ্যালেন্টাইন বেছে নেয়া এবং তার সাথে গিফট দেয়া-নেয়ার প্রথা পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়। মানুষ এখন নিজের পছন্দমতো কাউকে ভ্যালেন্টাইন হিসেবে বেছে নিতে পারে। প্রিয়জনকে বেছে নেওয়ার এই স্বাধীনতা ভালোবাসা দিবসে নতুন বৈচিত্র এবং মানব মানবীয় সম্পর্কে গভীরতা এনে দিয়েছে।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

জুলাই ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুন    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১