July 22, 2017

চরমোনাই’র বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে পীর সাহেব ॥ দেশের নেতারা যদি আল্লাহ ওয়ালা হতেন তাহলে কোথাও কোনো দাঙ্গা-হাঙ্গামার ঘটনা ঘটত না

--- ৫ মার্চ, ২০১৪

pir-shaeb-chormoni

শাহীন হাফিজ, চরমোনাই থেকে ফিরে ॥ চরমোনাই’র পীর সাহেব হযরত মাওলানা মুফতী রেজাউল করিম বলেছেন, চরমোনাই মাহফিলের উদ্দেশ্য মানুষকে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলের পথে চলার দিক নির্দেশনা দেয়া। চরমোনাই আসার একমাত্র নিয়ত হতে হবে আল্লাহকে রাজী খুশী করা।  যদি কেউ দুনিয়ার স্বার্থ হাসিলের জন্য কোন  কিছু পাওয়ার আশায় চরমোনাই এসে থাকেন তারা নিয়ত পরিবর্তন করে নেন। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংঘাতময় পরিস্থিতিকে ইঙ্গিত করে পীর সাহেব বলেন দেশের নেতারা যদি আল্লাহ ওয়ালা হতেন তাহলে কোথাও কোনো দাঙ্গা-হাঙ্গামার ঘটনা ঘটত না। ইসলাম শান্তির ধর্ম। সারা বাংলাদেশে মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারত।
বুধবার পীর সাহেব সৈয়দ রেজাউল করিম বাদ জোহর ৩ দিনব্যাপী বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলের উদ্ধোধনী বয়ান করেন। উদ্বোধনী বয়ানে শরিয়ত সম্পর্কে পীর সাহেব বলেন চরমোনাই দুনিয়া পাওয়ার জায়গা নয়। এখানে আখেরাত পাওয়ার জন্য যারা এসেছেন তাদেরকে অনেক কষ্ট সহ্য করে ঈমানী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। তিনি ধৈর্য্যরৈ সাথে ৩দিনের এ মাহফিলের নিয়মিত ওলামায়েকেরামদের  বয়ান শোনা এবং সে অনুযায়ী নিজের জীবন পরিচালনা করার জন্য অনুরোধ জানান।

মাহফিলের প্রথম দিনেই লাখ লাখ মুসল্লী চরমোনাই’র দরবার শরীফে ভীড় করেন। লাখো মুসল্লীর পদভারে মুখরিত হয়ে কীর্তনখোলার তীরবর্তী এ তীর্থ স্থান। মাহফিল সংলগ্ন নদীর তীরবর্তী এক কিলোমিটার এলাকায় এখন আর নৌযান ভেরানোর কোন খালি জায়গা নেই। গতকাল মাহফিলের বিশাল মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। সন্ধ্যার পর যারা মাহফিলের উদ্দেশ্যে চরমোনাই এসেছেন তাদেরকে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন বাড়ির উঠোন, বাগান ও রাস্তায় অবস্থান করতে হচ্ছে।

নৌযানে আশ্রয় নিয়েই অনেকে মাহফিল শুনছেন। ওয়াজ মাহফিল শোনার সুবিধার্থে দীর্ঘ পান্ডেল এলাকায় ২ হাজার মাইক, ৮ হাজার বৈদ্যুতিক বাতি স্থাপন করা হয়েছে। খাবার পানির যোগানের জন্য ১৫ হাজার নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে ৩১৬ কেভি এবং ৪৮ কেভি’র ২টি জেনারেটর সার্বক্ষনিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মাহফিলে আগত মুসুল্লীদের চিকিৎসার জন্য মাহফিল কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সেখানে ২০০ শয্যা বিশিষ্ট অস্থায়ী হাসপাতাল ও দ্রুত চিকিৎসার জন্য এ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ৩৫ জন ডাক্তার এবং ৭০ জন স্বাস্থ্যকর্মী ঐ অস্থায়ী হাসপাতালে সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করছেন। র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার নিরাপত্তাকর্মী ছাড়াও মুজাহিদ কমিটির ৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক, ৪ হাজার মাদ্রাসার ছাত্র সেখানে সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও দেশের বিভিন্নস্থানসহ বিশ্বের ২০টি দেশের লাখ লাখ মুসল্ল¬ীরা এ মাহফিলে অংশগ্রহণ করবেন।
মাহফিলে সৈয়দ মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী ও সৈয়দ মাওলানা মুফতী ফয়জুল করীম সহ দেশ -বিদেশের বরেন্য ইসলামিক চিন্তা বিদগণ বক্তৃতা করবেন।
মাহফিলে আগত তিন মুসুল্লীর মৃত্যু
মাহফিলে আগত তিন মুসুল্লীর মৃত্যু হয়েছে। মাহফিল কমিটি সূত্রে জানা গেছে বার্ধক্য ও হার্টঅ্যাটাকে তাদের মৃত্যু হয়। নিহত তিন মুসুল্লীর জানাযা শেষে মুজাহিদ কমিটি তাদের বাড়িতে লাশ পৌছানোর ব্যবস্থা করছে।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

জুলাই ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুন    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১