July 22, 2017

বিশাল জাহাজ গুলো পানির নীচেই ধ্বংস হচ্ছে

--- ১৪ মার্চ, ২০১৪

barisal-kirtonkhola

লিটন বাশার ॥ দেশের নৌপথে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটলেও তা উদ্ধারে নেই কোন শক্তিশালী নৌযান। যাত্রীবাহী লঞ্চ, যাত্রীবাহী ট্রলার, পণ্যবাহী কার্গো ও ফেরী ডুবির দুর্ঘটনা ঘটছে প্রায়ই। নিমজ্জিত নৌযান উদ্ধারের জন্য বিআইডব্লিউটিএ’র উপর ভরসা করা যাচ্ছে না। সরকারী ঐ সংস্থার উদ্ধারকারী জলযান হামজা ও রুস্তুম অনেক আগেই যৌবন হারিয়েছে। ঐ দু’টি জাহাজের ক্রেনের উত্তোলন ক্ষমতা ৬০ টন করে। হামজা সংগ্রহ করা হয়েছিল ১৯৬৫ সালে। রুস্তুম সংগ্রহ করা হয় ১৯৮৪ সালে । দীর্ঘ ২৯ বছর পর গত বছর এপ্রিল মাসে কোরিয়া থেকে আমদানী করা হয় দু’টি উদ্ধারকারী নৌ-যান। নির্ভিক ও প্রত্যয় নামের এ নৌ-যান দু’টির উত্তোলন ক্ষমতা আড়াই’শ টন করে । প্রয়োজনের তুলনায় কম উত্তোলন ক্ষমতা সম্পন্ন জলযান হলেও নতুন দু’টি উদ্ধারকারী নৌ-যান নিয়ে আশার সঞ্চার হয়েছিল । নতুন দু’টি উদ্ধারকারী জলযানের ক্ষমতা ৫’শ টন হলেও রুস্তম ও হামজার মত নির্ভিক ও প্রত্যয় একযোগে উদ্ধার অভিযান চালাতে পারে না । নৌ-দূঘর্টনার পর একত্রে এই দু’টি জলযানকে একত্রে কাজে লাগানো সম্ভব হয় না। একটি উদ্ধার অভিযানে যুক্ত করে অপরটি বসিয়ে রাখা ছাড়া কোন উপায় থাকে না। গভীর পানি ছাড়া চলতে পারে না ভারী এ নতুন  জাহাজ দু’টি। ৩৬৫ কোটি টাকা খরচ করে কোরিয়ার ডর্ক ইয়াডে নির্মান করা এ উদ্ধারকারী জলযান তেমন কোন উপকারে না আসছে না। অথচ ৪ বছর ধরে এ দু’টি জাহাজ নির্মানের সময় বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান শামসুদ্দোহা খন্দকার ৩ বার পরিদর্শনের নামে ৩ বার কোরিয়ায় প্রোমদ ভ্রমন করেছেন। নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়ের আরো কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ জাহাজ পরিদর্শনের নামে অহেতুক বিদেশ ভ্রমনের অভিযোগ রয়েছে। বিপুল টাকা ব্যায়ে তাদের এ সফরে সংস্থার তেমন কোন উপকার হয়নি বলে নৌ-যান সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
 বিআইডব্লিউটিএ’র সূত্র জানায় রুস্তম ও হামজা ৭/৮ ফুট পানিতে চলাচল করতে পারে। নির্ভিক ও প্রত্যয় চলাচলের জন্য এর দ্বিগুন গভীরতা প্রয়োজন হয়। যদিও সংস্থার পরিচালক ( নৌ সংরক্ষন ও পরিচালন) মোহম্মদ হোসেন ইত্তেফাককে জানান- নির্ভিক ও প্রত্যয় ১০/১২ ফুট পানিতে চলতে পারে। দু’টি জাহাজ একত্রে অভিযানে না যাওয়ার ব্যাপারে তিনি জানান- নিমজ্জিত নৌ-যানে ক্রেন যুক্ত করার পর তা সমান ওজন প্রত্যয় ও নির্ভিকে ভাগ করে দিতে হয়। দু’টি ক্রেনের ওজন সমান না হলে বিকল হওয়ার আশংকা রয়েছে। সংস্থার এ কর্মকর্তা জাহাজ দু’টি খুবই স্পর্শকাতর উল্লেখ করে বলেন সর্তকতার সাথে পরিচালনা  করতে না পারলে সমস্যা সৃষ্টি হয়। নিমজ্জিত জাহাজের ভার নির্নয় করে দু’ ভাগে সমান ভাবে বিভক্ত করা যায় না বলেই প্রত্যয় ও নির্ভিক একত্রে অভিযানে যাচ্ছে না বলে সংস্থার পরিচালক জানান। সর্বশেষ গত ৯ মার্চ রাতে কীর্তনখোলা নদীতে নিমজ্জিত পন্যবাহী কার্গো কর্নফুলী-৫ উদ্ধারের ব্যাপারে সংস্থার ঐ পরিচালক জানান-৯’শ ৫০ টন কাচামাল নিয়ে নিমজ্জিত কার্গোর ওজন এখন ১৫’শ টনের উপরে। ফলে হামজা, রুস্তুমের সাথে প্রত্যয় ও নির্ভিক সহ বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী সকল জলযান একত্রে গেলেও কর্নফুলীকে তুলতে পারবে না। বিআইডব্লিউটিএ’র বরিশালস্থ উপ-পরিচালক (নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা) আবুল বাশার মজুমদার  জানান-নিমজ্জিত কার্গোর মালিককে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কর্নফুলীকে উত্তোলনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান- নিমজ্জিত কার্গোতে সিমেন্ট তৈরীর জন্য বালু জাতীয় কাচামাল ছিল। এখন ঐ বালু বিশেষ পদ্ধতিতে অপসারন করে কার্গোটি মালিক উদ্ধার করতে পারবেন। এ ব্যাপারে সংস্থার উদ্ধারকারী নৌ-যান যুক্ত না হলেও উদ্ধার অভিযানে অন্যকোন সহযোগীতা লাগলে তা দেওয়া হবে।
নদীর তেলদেশে থেকে
গেছে অনেক জাহাজ
২০১২ সালের ২৫ জুলাই মেঘনায় তেলবাহী ট্যাংকার এমটি মেহেরজান নিমজ্জিত হয়। নিমজ্জিত জাহাজ থেকে মেঘনায় তেল ছড়িয়ে পরার খবরে উদ্ধার অভিযানে নামে বিআইডব্লিউটিএ। এক পর্যায়ে নৌ-বাহিনীর সহায়তা নেওয়া হয়। এ অভিযানে সংস্থার বিপুল টাকা খরচ হলেও  একশ ফুট পানির নীচেই থেকে গেছে এমটি মেহেরজান। গভীর পানিতে নিমজ্জিত নৌ-যান সনাক্ত করতে পারে না রুস্তম বা হামজা। রশির সাথে এংকর বেধে জাহাজ অনুসন্ধানের জন্য সন্ধানী ও অগ্রগামী নামের দু’টি জাহাজ রয়েছে বিআইডব্লিউটিএ’র। এমটি মেহেরজানকে একশ ফুট পানি নীচে সনাক্ত করতেই সন্ধানী ও অগ্রগামীর সময় লেগেছে ৩ দিন। এরপর হামজা ও রুস্তম বার বার ব্যর্থ হলে ৫ দিন পর চট্রগ্রাম থেকে নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজ সৈকত অকুস্থলে পৌছায়। তারা টানা ৩৯ ঘন্টা অভিযান চালিয়ে কোন সাফল্য পায়নি। ৩ আগষ্ট মেহেরজানকে পরিত্যক্ত করে অভিযান সমাপ্ত করেন। এর আগে মেঘনার হিজলা এলাকায় ১৯৮৪ সালে এমভি সামিয়া নিমজ্জিত হয়েছিল । হামজা ও রুস্তুম সম্মিলিত ভাবে ঐ জাহাজ উদ্ধারেও হিমশিম খায়। ২০০৩ সালের ৮ জুলাই চাঁদপুরের ষাটনলে নিমজ্জিত ঢাকা-লালমোহন রুটের এমএল নাসরিনকে পানির নীচে চিহ্নিত করাই সম্ভব হয়নি। শত শত যাত্রী নিখোঁজ অবস্থায় ঐ উদ্ধার অভিযান পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। টানা তিনদিন ডুবুরিরা ৭০ ফুট পানির নীচে অনুসন্ধান করে জাহাজ চিহ্নিত করতে পারেনি। ২০১২ সালের  ১২ মার্চ মেঘনায় শরিয়তপুর -১ লঞ্চ নিমজ্জিত হওয়ার পর উদ্ধারকারী জাহাজের  বেহালদশার কারনে  একই অবস্থার সৃষ্ঠি হয়। ২০০৯ সালে ভোলার লালমোহনে কোকো দুর্ঘটনার পর রুস্তুম- হামজাকে একত্রিত করেও লঞ্চটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। দু’ বছর পর অবশ্য বেসরকারী উদ্ধার কোম্পানীর সহায়তায় কোকোকে উদ্ধার করা হয়েছে। কর্নফুলীকে একই ভাবে উদ্ধার করা হতে পারে বলে ধারনা দিয়েছেন নৌ-যান মালিকরা।  
আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই
লঞ্চ মালিকদের মতে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সমৃদ্ধ উদ্ধারকারী জাহাজের সাহায্যে অতি সহজে নদীর তলদেশে নৌযানের অবস্থান চিহ্নিত করা সম্ভব। আধুনিক এসব উদ্ধারকারী জাহাজ তো দূরের কথা বাংলাদেশে অহরহ উদ্ধার অভিযানে যাওয়া হামজা ও রুস্তমে ইকো সাউন্ডার পর্যন্ত নেই। হামজা ও রুস্তুম চলৎশক্তিহীন। কোথাও দুর্ঘটনা ঘটলে টাগ বা অন্য জাহাজের সাহায্যে তাকে টেনে নিয়ে যেতে হয়। বিশাল ঐ জাহাজ কোথাও টেনে নেয়া খুব সহজ নয়। উপরন্ত টাগ ও জাহাজের গতি অনেক কম। টাগ ও জাহাজ প্রতি ঘন্টায় ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার চলতে পারে। ভাটার সময় এর গতি আরো কমে যায়। ফলে লক্ষ্মীপুরসহ চাঁদপুরের আনাচে-কানাচে কিংবা বরগুনার বিষখালী, খাতাচেড়া কিংবা আগুন মুখা নদীতে দুর্ঘটনা ঘটলে বরিশাল ও নারায়নগঞ্জ থেকে রুস্তুম- হামজার অকুস্থলে পৌছতে দীর্ঘ সময় পার হয়ে যায়। উদ্ধার অভিযানে বিলম্ব ঘটে। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর পর বিআইডব্লিউটিএ যে দু’টি উদ্ধার ইউনিট যুক্ত করেছে তাও তেমন কাজে আসছে না। দেশের বিশাল নৌ-পথ যখন  নাব্যতা সংকটে রয়েছে তখন গভীর জলের প্রানীর মত প্রত্যয় ও নির্ভিক দূর্ঘটনা স্থলে কি ভাবে পৌছাবে তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। জোয়ার-ভাটার হিসাব মিলিয়ে ঐ দু’টি ইউনিট দূঘর্টনাস্থলে পৌছালেও একটি মাত্র ইউনিট কাজ করতে পারবে। সে ক্ষেত্রে মান্ধাতার আমলের তৈরী হামজা ও রুস্তমের সাথে যুক্ত করে ঐ ইউনিট কতটা সাফাল্য দেখাতে পারবে তা নিয়ে সন্দিহান নৌ-যান মালিকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআইডব্লিউটিএ’র এক কর্মকর্তা ইত্তেফাককে জানান রুস্তম ও হামজা সংযোজনের সময় ৬০ টন উত্তোলন ক্ষমতা সম্পন্ন থাকলেও এখন সেই ক্ষমতা নেই।

 উদ্ধারকারী জলযান নেই ॥ তবুও
বৃহৎ জাহাজ নির্মানের অনুমতি
১৯৬০-৬৫ সালে ছোট ছোট নৌযান চলাচল করত। তৎকালীন বিবেচনায় ঐ উদ্ধারকারী জাহাজ সংগ্রহ করা  হয়েছিল। এখন বড় বড় রুটগুলোতে বড় বড় লঞ্চ চলাচল করে। কোনটি দোতলা আবার কোনটি তিন তলা। শত শত নয় সহস্রাধিক যাত্রী বহনকৃত লঞ্চগুলো এখন ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের ছোট উপজেলা শহরেও যাতায়াত করে। লঞ্চগুলির বডি স্টীলের। ওজন অনেক বেশি। বরিশালেই  একের পর এক বড় বড় জাহাজ নির্মানের প্রতিযোগিতা চলছে। সুরভী এক সময় ছিল দেশের সর্ববৃহৎ জলযান এরপর সুন্দরবন কোম্পানী দেশের সর্ববৃহৎ যাত্রীবাহি নৌ-যান নির্মান করে। এরপর কীর্তনখোলা কোম্পানী দেশের সর্ববৃহৎ জলযান কীর্তনখোলা-২ গত বছর নদীতে ভাসিয়ে বাংলার টাইটানিক খেতাব পায়। এখনো বেলতলা খেয়াঘাটে পাল্লা দিয়ে তৈরী করা হচ্ছে বিশাল বিশাল বিলাস বহুল লঞ্চ। কে কার চেয়ে বড় নৌ যান তৈরী করে যাত্রীদের দৃষ্টি কারতে পারে তা প্রতিযোগীতা চলছে কয়েকটি কোম্পানীর মধ্যে। একের পর এক এ ধরনের বড় বড় জাহাজ নির্মান হলেও তা দূঘর্টনাকবলিত হলে উদ্ধারের নেই কোন উপায়। মাঝারী নৌ-যান নিমজ্জিত হলেই অধিকাংশ জাহাজকে পরিত্যক্ত ঘোষনা করতে বাধ্য হয় বিআইডব্লিউটিএ।
বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তারা জানান-যে কোন নৌ-যান নিমজ্জিত হলে ওজন কয়েকগুণ বেড়ে যায়। পানির নীচে দু’একদিন থাকলে নৌ-যানের ওজন আরো অনেক বাড়ে। এ কারণে বড় লঞ্চ দুর্ঘটনার পর তা আর উদ্ধার করা সম্ভব হয় না।
নারায়নগঞ্জে-৩
বরিশালে -১
তিন দশক ধরে চাঁদপুরের নিম্নাঞ্চলে অর্থাৎ দক্ষিণ ও দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলের নৌপথে উদ্ধার অভিযানে দায়িত্ব পালনকারী হামজা। এ জন্য হামজাকে রাখা হয়েছে নদীবেষ্ঠিত দক্ষিনাঞ্চলের বিভাগীয় সদর দপ্তর বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে। যাতে এ অঞ্চলে দূঘর্টনার পর দ্রুত হামজা সেখানে পৌছাতে পারে। আর চাঁদপুরের উপরের অংশে অর্থাৎ দেশের অন্য নৌপথে উদ্ধার অভিযানের জন্য নারায়নগঞ্জে রাখা হয় রুস্তুমকে। নির্ভিক ও প্রত্যয় আমদানীর সময় এ দু’টি উদ্ধারকারী জলযান বরিশাল ও নারায়নগঞ্জে রেখে রুস্তুমকে আরিচা ও হামজাকে কিশোরগঞ্জে রাখার কথা ছিল। কিন্ত গত বছর এপ্রিল মাসে প্রত্যয় ও নির্ভিক উদ্বোধন পর নারায়নগঞ্জে নিয়ে রাখা হয়। সেখানে এখন  রুস্তুম সহ ৩ টি উদ্ধারকারী জলযান রাখা হলেও নদীর দেশ হিসাবে পরিচিত বরিশালে সেই পুরনো হামজাই ভরসা।  অথচ সিংহভাগ নৌ-দূঘর্টনা ঘটে দক্ষিনাঞ্চলে। দূঘর্টনার পর হামজা অকুস্থলে পৌছালেও নারায়নগঞ্জ থেকে রুস্তুমের পৌছাতে ২/৩ দিন সময় লেগে যায়। আর প্রত্যয় ও নির্ভিক গভীর পানি খুজে জোয়ার – ভাটার উপর নির্ভর করে কয়দিন পৌছাবে তা বলা মুশকিল। কুরিয়া থেকে বাংলাদেশে আসার পর প্রত্যয় বা নির্ভিক এখনো দক্ষিনাঞ্চলের কোথাও আসেনি। নৌ-যান মালিকদের বক্তব্য যেহেতু নির্ভিক ও প্রত্যয় একযোগে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে পারে না সেহেতু এ দু’টি উদ্ধারকারী জলযান একত্রে রুস্তুমের সাথে নারায়গঞ্জে রেখে দেওয়ার কোন যুক্তি নেই।
ডুবুরী সংকট
বিআইডব্লিউটিএ  সূত্রে জানাগেছে  হামজা ও রুস্তুমে নিয়মিত দু’ডুবুরির পাশাপাশি দৈনিক ভিত্তিতে আরো একজন করে ডুবুরি রয়েছেন। মোট তিনজন ডুবুরী নিয়ে পরিচালিত হয় একেকটি জাহাজের উদ্ধার অভিযান। ডুবুরী স্বল্পতার কারনে নৌ-দূঘর্টনার পর প্রায়ই নৌবাহিনী , কোস্টগার্ড ও ফায়ারসার্ভিস থেকে ডুবুরী দল এনে কাজ করাতে হয় বিআইডব্লিউটিএ কে। বেশ কিছু নৌ-দূঘর্টনার পর দেখা গেছে বরিশাল ফায়ার সার্ভিসে ডুবুরী না পেয়ে খুলনা ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স থেকে ডুবুরি আনতে হয়েছে।  প্রয়োজনীয় ডুবুরি রাখার পাশাপাশি উদ্ধারকারী জলযানে একাধিক অপারেটর থাকা প্রয়োজন বলে বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তারা মনে করেন। কিন্তু হামজা ও রুস্তুমে ক্রেন অপারেটন আছেন একজন করে। লাইফম্যানও মাত্র একজন করে। উদ্ধারকারী জাহাজে ক্রেন অপারেটর কিংবা লাইফম্যান অসুস্থ হলে পুরো উদ্ধার অভিযান থমকে দাড়ায়। ঐ দু’টি পদের অভিজ্ঞ লোক ছাড়া উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা কখনোই সম্ভব হয় না। সংশ্লিষ্ট জাহাজের কেউ অসুস্থ কিংবা অনুপস্থিত থাকলে অন্য জাহাজ থেকে লোক ধার করা হয়। এ সময় একাধিক ইউনিট উদ্ধার অভিযান গেলে বিপাকে হয়। একাধিক উদ্ধারকারী জলযান কাজে লাগানোর জন্য জনবল পাওয়া যায় না। হামজা ও রুস্তুমের একটিতেও স্যালভেজ সুপারভাইজার নেই। জাহাজের কমান্ডারকেই  এ দায়িত্ব পালন করতে হয়। উদ্ধার অভিযানে দ্রুত ছুটে গিয়ে অংশ নেওয়া এ দু’টি জাহাজে নেই কোন আধুনিক যন্ত্রপাতি। সকল মালামাল মান্ধাতার আমলের। ফলে অভিযানের নামে বিপুল টাকা খরচ হলেও বড় ধরনের নৌ-যান উদ্ধার করতে পারছে না বিআইডব্লিউটিএ।  দূঘর্টনা কবলিত নৌ-যান মালিকদের বেসরকারী প্রতিষ্টানের সহায়তায় এ সব নৌ-যান উদ্ধার করতে বিপুল টাকা খরচ করতে হয়। বিআইডব্লিউটিএ ব্যর্থ হওয়ার পর বেসরকারী প্রতিষ্টান এমভি সামাদ ও কোকো সহ বেশ কয়েকটি নৌ-যান কৌশলে উত্তোলন করতে সক্ষম হয়েছে। তবে উত্তাল মেঘনা সহ বিশাল নদীতে যে সব ভারী নৌ-যান নিমজ্জিত হয়েছে তা আর কখনোই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ সব বিলাস বহুল লঞ্চ ও পন্যবাহী একেকটি কার্গোর মূল্য ১০ কোটি থেকে ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত। উদ্ধাকারী আধুনিক জলযান ও যন্ত্রপাতি না থাকার কারনেই দেশের কোটি কোটি টাকার এ সম্পদ পানির নীচেই ধ্বংস হচ্ছে বলে মনে করছেন নৌ-যান মালিক সহ সংশ্লিষ্টরা। একই অবস্থা বরন করতে যাচ্ছে ৯ মার্চ কীর্তনখোলা নদীতে নিমজ্জিত পন্যবাহী কার্গো কর্নফুলী-৫। এ কার্গোটি উদ্ধার অভিযানে কোন পদক্ষেপ না নিয়েই বিআইডব্লিউটিএ কার্গো মালিককে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় কার্গো উদ্ধারের পরমর্শ দিয়েছেন। ঐ দূঘর্টনার পর ঢাকা থেকে আসা সংস্থার কর্মকর্তারা দূঘর্টনাস্থল পরিদর্শন করে নিমজ্জিত কার্গোর উপরে পতাকা ও বাতি যুক্ত করেই দায়িত্ব শেষ করেছেন। এ ব্যাপারে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয় দিনে পতাকা দেখে এবং রাতে বাতি দেখে যাতে অপর নৌ-যান গুলো ঐ চ্যানেলের পরিবর্তে অন্য চ্যানেল ব্যবহার করে সেই সর্তকতার জন্যই এ কাজ করা হয়েছে।  

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

জুলাই ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুন    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১