July 22, 2017

বরিশালে কেন্দ্র দখল সংর্ঘষ ও পুলিশের গুলি

--- ১৫ মার্চ, ২০১৪

1barisal---pic-15-03--01

ব্যাপক জালভোট প্রদান, ভোটকেন্দ্র দখল,   সংঘর্ষ ও পুলিশের গুলি বর্ষনের মধ্য দিয়ে শনিবার জেলার ৩ টি উপজেলার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। মুলাদীতে কেন্দ্র দখল করার প্রতিবাদে নির্বাচন বর্জন ও বাবুগঞ্জে সংঘর্ষ  ও পুলিশশের গুলি বর্ষনের ঘটনা ঘটলেও হিজলা উপজেলায় তেমন কোন অপ্রতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
মুলাদী:  মুলাদীতে ভোট গ্রহন শুরু হওয়ার সাথে সাথেই কেন্দ্র গুলো আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর লোকজন দখল করে নিলে সকাল ১০টায় নির্বাচন বর্জনের ঘোষনা দেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী  ছাত্তার খান। তিনি অভিযোগ করেন কাজীর চর,খাসের হাট, চর লক্ষ্মীপুর কেন্দ্রে তার সমর্থকদের মারধর করা সহ সকল কেন্দ্র থেকে এজন্টেদের বের করে দেওয়া হয়। বোমা ফাটিয়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করে ভোট কেন্দ্র গুলো দখলের সময় বিএনপি’র অর্ধশত নেতা-কর্মী আহত হয়েছে বলে দাবী করেন সাত্তার খান। তিনি প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ঠ আচরনের প্রতিবাদে আজ রবিবার উপজেলা সদরে সকাল- সন্ধ্যা হরতাল আহবান করেছেন। মুলাদীতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল ও জাল ভোট প্রদানের  অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আঃ মালেক রাঢ়ী, জাপা’র প্রার্থী আঃ মজিদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বেলাল ফকির। তারাও বিএনপি প্রার্থীর ভোট বর্জনের পরপরই নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানোর ঘোষনা দেন। এদিকে ভোট কেন্দ্রে তেমন ভোটার উপস্থিতি না থাকলেও ৭২ থেকে ৭৫ ভাগ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচনী কর্মকর্তারা।
 মুলাদী উপজেলা পরিদর্শন শেষে  পুলিশ সুপার একেএম এহসান উল্লাহ জানান- মুলাদীর কাজীর চরে কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে পুলিশ শর্টগান ও টিয়ার গ্যাস  ছুড়ে তা প্রতিহত করেছে। স্থানীয়রা জানান- ঐ কেন্দ্রে একজন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হামলা চালালে পুলিশ ৬ রাউন্ড শর্টগানের গুলি বর্ষন করে। ঐ কেন্দ্রে দু’ঘন্টা ভোট গ্রহন স্থগিত ছিল।
বাবুগঞ্জ
এ উপজেলার জাহাপুর কেন্দ্রে সকাল ৯ টায় আওয়ামীলীগ সমর্র্থিত প্রার্থীর সমর্থকরা হামলা চালায় বিএনপি সমর্থকদের উপর। বিএনপি’র এক কর্মী ছুরিকাঘাতে আহত হন। এছাড়াও সায়রের কোলচর, ঠাকুর মল্লিক, বাদলা কেন্দ্র দখলের বার বার হামলা চালায় আওয়ামীলীগ সমর্থকরা। আরজিকালিকাপুর কেন্দ্রে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আক্তারুজ্জামান মিলনের নেতৃত্বে হামলা হয়। বিএনপি পাল্টা হামলা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময়  পুলিশ ১৪ রাউন্ড শট গানের গুলি ছোড়ে। আফতাব রাঢ়ী সহ বিএনপি’র ৩ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ঠাকুর মল্লিক ভোট কেন্দ্রে বিএনপি’র কর্মী বাবুল সিকদার ও স্থানীয় ইউপি মেম্বর মোর্শেদকে পিটিয়ে গুরুতর জখন করে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা। ঐ কেন্দ্র সহ আগরপুর ইউনিয়নের সব ক’টি কেন্দ্র আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সরদার খালেদ হোসেন স্বপনের লোকজন দখল করে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বেধরক মারধর করে। ১৯ দলীয় জোটের প্রার্থী কামরুল আহসান হিমু অভিযোগ করেন, ভোট কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দিয়ে কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা করেছে পাশ্ববর্তী গৌরনদী উপজেলা থেকে ভাড়া করে নিয়ে আসা সর্বহারা পার্টির সদস্যরা। তিনি অভিযোগ করেন হামলায় বিএনপি’র দু’শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছে।  ভোটকেন্দ্র দখল ও  বিএনপি নেতা-কর্মীদের মারধর করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বাবুগঞ্জে আহত বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাদল সিকদার ও মোর্শেদ মেম্বর কে গুরুতর অবস্থায় শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকীদের স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ওই উপজেলার ওয়াকার্স পার্টি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী বজলুর রহমান মাষ্টার একই অভিযোগ করেন।
বাবুগঞ্জের ২৪টি কেন্দ্রে পূর্ণ
ভোটগ্রহণের দাবী সেলিমা রহমানের
বাবুগঞ্জের  ৩৫টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ২৪টি কেন্দ্রে পূর্ণ: ভোট গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান। গতকাল এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি  আগরপুর ইউনিয়নে ৬টি, কেদারপুর ইউনিয়নে ৪টি, রহমতপুর ইউনিয়নে ৬টি, চাঁদপাশা ইউনিয়নে ৩টি, দেহেরগতি ইউনিয়নে ৩টি ও মাধবপাশা ইউনিয়নে ২টি কেন্দ্রে হামলা ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের মারধর করে জালভোট দেওয়ার অভিযোগ করে বলেন এ কেন্দ্রগুলোতে পুন:নির্বাচন দিতে হবে। সাংবাদিক সম্মেলনে দলীয় প্রার্থী কামরুল হাসান হিমু ভোট ডাকাতির জন্য শাসক দল ও প্রশাসনকে দায়ী করে বলেন-পুনরায় এ কেন্দ্র গুলোতে নির্বাচন হলে জনগন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।
হিজলা
এ উপজেলায় সকাল ৮টা থেকে শান্তি পূর্নভাবে ভোট গ্রহন চললেও বেলা ১২ টার দিকে উপজেলার গুয়া বাড়িয়া, পত্তনী ভাঙ্গাসহ বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে দখল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সুলতান মাহমুদ টিপু সিকদারের বিরুদ্ধে। সেখানে আওয়ামী লীগ কর্মীরা সহকারী রির্টানিং অফিসার জাহিদ হাসান কে হিজলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে লাঞ্ছিত করে ।  তিনটি উপজেলার মধ্যে হিজলায় বড় ধরনের কোন প্রকার অপ্রতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সুলতান মাহমুদ সিকদার রিটার্নিং অফিসার লাঞ্জিত কিংবা ভোট কেন্দ্র দখল হওয়ার খবর ভিত্তিহীন বলে জানান  শান্তিপূর্ন ও সুষ্ট ভাবে জনগন রায় দিয়েছে। যে ফলাফল হবে তা মেনে নেবো।
জেলা রিটানিং অফিসার দুলাল তালুকদার জানিয়েছে হিজলা উপজেলার ৩ কেন্দ্রের ভোট গ্রহন স্থগিত করা হয়েছে। সেখানকার কাউরিয়া সংহতি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র, হিজলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও কাউরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কারনে তা বন্ধ হয়েছে। মুলাদী ও বাবুগঞ্জ উপজেলার কোন ভোট কেন্দ্র থেকে লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় ঐ দুই উপজেলার কোন ভোট কেন্দ্র স্থগিত করা হয়নি বলে তিনি জানান।
গতকাল নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া ৩টি উপজেলার মধ্যে বাবুগঞ্জে মোট ভোট কেন্দ্র-৩৫টি, ভোটার সংখ্যা ৯৪ হাজার ৯৭জন। উপজেলাটিতে চেয়ারম্যান পদে  প্রার্থী ৫জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪জন প্রার্থী।
হিজলায় ভোট কেন্দ্র-৩০টি, মোট ভোটার-৮৬ হাজার ৮৭১। এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে লড়ছে-১০জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১১জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে  ৬জন প্রার্থী।
মুলাদীতে ভোট কেন্দ্র-৫২টি, ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ২৩ হাজার ২৩৭জন, প্রার্থী চেয়ারম্যান -৫জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬জন ও মহিলা ভাইসচেয়ারম্যান পদে ৪জন।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

জুলাই ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুন    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১