October 22, 2017

বরিশাল নৌ বন্দর নির্মানে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা

--- ২৫ মার্চ, ২০১৪

শাহীন হাফিজ ॥ বরিশাল নৌবন্দর নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় দু’ ঠিকাদার ও বিআইডবিব্লউটিএ’র  ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে বন্দরের স্পাড নির্মান ও বারান্দার রেলিং নির্মানে রড কম দিয়ে অর্থ আত্মসাতের প্রমান পাওয়া গেছে। এ দুটি কাজে রড কম দিয়ে ৭ লাখ ৪৮ হাজার ১৬৫ হাজার টাকা আত্মসাত করেছেন সংশ্লিষ্ট দু’ ঠিকাদার। দুদকের উপ সহকারী পরিচালক মোঃ নেয়ামুল গাজী বাদী হয়ে মঙ্গলবার কোতোয়ালী মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন।

উভয় মামলায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ছাড়াও নৌ বন্দর নির্মানের প্রকল্প পরিচালক এবং বিআইডব্লি¬উটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী সহ মোট ৫ জনকে আসামী করা হয়েছে। দুদকের উপ-পরিচালক সুভাষ চন্দ্র দত্ত মামলা দায়েরের সত্যতা স্বীকার করে জানান, মামলার তদন্ত কার্যক্রমও করবে দুদক। দুটি মামলার প্রধান আসামী হচ্ছেন নৌ বন্দর নির্মানের ঠিকাদার যথাক্রমে মেসার্স বিজলী কনস্ট্রাকশনের মালিক নগরীর আলেকান্দা এলাকার বাসিন্দা বজলুর রহমান ও ঢাকার দক্ষিণ কমলাপুর এলাকার বাসিন্দা মেসার্স সালাম এন্টারপ্রাইজের মালিক আঃ ছালাম। উভয় মামলায় অপর আসামীরা হচ্ছেন নৌ বন্দর নির্মানের প্রকল্প পরিচালক জুলহাসউদ্দিন, বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী এজেএএম শাহনেওয়াজ, সহকারী প্রকৌশলী এস,এম আশফাজুজ্জামান এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম। বিল পাস করে ঠিকাদারকে অর্থ আত্মসাতে সহায়তা করায় বিআইডব্লি¬উটিএ’র ঐ কর্মকর্তাদের মামলায় আসামী করা হয়। মামলার বিবরন অনুযায়ী, নৌ বন্দরের স্পাড নির্মানে রড কম দিয়ে ৪ লাখ ৭০ হাজার ৭শ’ টাকা আত্মসাত করেছেন ঠিকাদার বজলুর রহমান। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, নৌবন্দরে মোট ১২টি স্পাড নির্মান করা হয়। প্রতিটি স্পাডে ৫ দশমিক ৯৪ মেট্রিক টন রড দেওয়ার নিয়ম থাকলেও ঠিকাদার প্রতিটি স্পাডে রড দিয়েছেন ৪ দশমিক ৯৬ মেট্রিক টন রড। এর ফলে ১২টি স্পাডে মোট ১১ দশমিক ৭৬ মেট্রিক টন রড কম দিয়ে ৪ লাখ ৭০ হাজার ৭০০ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে।

অপর মামলাটি দায়ের করা হয় নৌ বন্দরের বারান্দার রেলিং নির্মানে রড কম দিয়ে ২ লাখ ৭৭ হাজার ৪৬৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে। এ কাজের ঠিকাদার হচ্ছেন মেসার্স সালাম এন্টারপ্রাইজের আঃ ছালাম। মামলার বিবরন অনুযায়ী, রেলিং নির্মানে ৬ হাজার ৯৩৬ দশমিক ৬৪ কেজি রড কম দেওয়া হয়েছে। এজাহার সুত্রে জানা গেছে, নৌ বন্দর নির্মানে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে দুদকের সাবেক উপ পরিচালক রঞ্জন কুমার মজুমদার অনুসন্ধান শুরু করেন। পরে গণপূর্ত বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী বরুন কুমার বিশ্বাসকে প্রধান করে বিভিন্ন দপ্তরের প্রকৌশলীদের নিয়ে তদন্ত দল গঠন করেন। তদন্ত দলের প্রকৌশলীরা সরেজমিনে গিয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে স্পাাড ও রেলিং নির্মানে অনিয়মের সত্যতা পান। এছাড়া গ্যাওয়ে, র‌্যাম্প ও ওয়াকওয়ে নির্মানে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলেও প্রযুক্তির অভাবে অনুসন্ধানী দল এর সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

অক্টোবর ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« সেপ্টেম্বর    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১