July 23, 2017

উচ্চাদালতের নির্দেশ অমান্য করে বরিশালে চলছে অনিবন্ধনকৃত স্পীডবোট

--- ৩১ মার্চ, ২০১৪

lahar-hat

কাজী রনী ॥ হাইকোর্টের স্থাগীতাদেশ থাকা সত্বেও বরিশাল লঞ্চ ঘাট সংলগ্ন ডিসি ঘাট ও লাহার হাটÑভেদুরিয়া বিআইডব্লিউটিএ নৌ টার্মিনাল এলাকা  থেকে অনিবন্ধনকৃত ট্রলার ও স্পীডবোটে যাত্রী পারাপার করছে। নৌ মালিক পক্ষ অভিযোগ করেছেন নৌ চলাচল বিধি  ২০০১ এর বিধান মতে “ কোন অনিŸন্ধনকৃত জাহাজ বা নৌকা বিআইডব্লিউটিএ বা বিআইডব্লিউটিসির অবতারন স্টেশন বা ১ কিলোমিটার চাইতে নিকটতম ঘাট হইতে যাত্রী লইতে কিংম্বা নামাতে পারবেনা। কিন্তুু বরিশাল লাহার হাট বিআইডব্লিউটিত্র নৌ টার্মিনাল (লঞ্চ অবতারন স্টেশন) ১ কিলোমিটার মধ্যে আইন উপেক্ষা করে দীর্ঘ বছর অনিবন্ধনকৃত ট্রলার ও স্পীড বোট চলাচল করছে। পুলিশ প্রশাসনের কর্তাদের মাসোয়ারা দিয়ে চলছে এই অবৈধ নৌযান ।
এদিকে কোন অনিŸন্ধনকৃত জাহাজ বা নৌকা বিআইডব্লিউটিএ বা বিআইডব্লিউটিসির অবতারন স্টেশন বা ১ কিলোমিটার চাইতে নিকটতম ঘাট হইতে যাএী লইতে কিংম্বা নামাতে পারবেনা এমন অভিযোগে বরিশাল অভ্যন্তরীন নৌচলাচল যাত্রী পরিবহন সংস্থার পক্ষে লঞ্চ মালিক কাজী ওয়াহেদ্দুজামান আইনজীবীর মাধ্যমে গত বছর ১০ জুন হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন যার নং-৫৪৮৬/২০১৩। রিটে বিবাদী করা হয় নৌ পরিবহন সচিব, বিআইডব্লিউটিত্র চেয়ারম্যান,সমুদ্র পরিবহন মহা-পরিচালক , বিআইডব্লিউটিত্র উর্ধ্বতন কর্মকর্তা , বরিশাল জেলা প্রশাসক, ভোলা জেলা প্রশাসক, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার , বরিশাল- ভোলা পুলিশ সুপার , ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বন্দর থানা(সাহেবের হাট) বরিশাল মেট্রোপলিটন সহ ১৪ জনকে। রিটের শুনানী শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও এ বি এম আলতাফ হোসেন সমম্বয় যৌথ বেঞ্চ ৭২ ঘন্টার মধ্যে বিবাদীদের বরিশাল ডিসি ঘাট ও লাহার হাট বিআইডব্লিউটিএ নৌ টার্মিনাল এলাকা  থেকে অনিবন্ধনকৃত ট্রলার ও স্পীডবোট চলাচল বন্ধের জন্য রুল জারী করেন।

রিট আবেদন কারী লঞ্চ মালিক মোঃ ওয়াহেদ্দুজামান অভিযোগ করে জানান হাইকোর্টের রুল জারির পর কয়েকদিন বরিশাল ডিসি ঘাট ও লাহার হাট বিআইডব্লিউটিএ নৌ টার্মিনাল এলাকা  থেকে অনিবন্ধনকৃত ট্রলার ও স্পীডবোট চলাচল বন্ধ থাকে। এর কিছুদিন পর পুনরায় অনিবন্ধনকৃত ট্রলার ও স্পীডবোট চলাচল শুরু করে। মালিক পক্ষ আরও জানান  বরিশাল ভোলা নৌ পথে দীর্ঘদিন বিলাস বহুল লঞ্চ চলাচল করছে। যার যাত্রী ধারন ক্ষমতা ১৫০ থেকে ২০০জন। সড়ক পথ উন্নয়ন সাথে সাথে লঞ্চ ব্যবসা এখন কমে আসছে। ফলে বরিশাল ভোলা নৌ পথে বিলাস বহুল লঞ্চে পূর্বের তুলনায় যাএী প্রায় ২৫/৩০ জন হয়। কিন্তুু বরিশাল ডিসি ঘাট এলাকা থেকে ভোলার ভেদুরিয়া খেয়াঘাট পর্যন্ত অবৈধ স্পীড বোড চলাচল করছে দীর্ঘ বছর । একই ভাবে লাহারহাট ঘাট থেকে স্পীড বোটের পাশাপাশি ইঞ্জিন চালিত ট্রলার চলাচল করছে। অবৈধ ভাবে চলাচল কারী স্পীড বোট ও ট্রলার চালকরা প্রতি যাত্রীর কাছ থেকে ২০০টাকা থেকে ৩০০ টাকা ভাড়া আদায় করছে। পাশাপাশি ঐসব স্পীড বোট ও ট্রলারে ধারন ক্ষমতার চেয়ে অধিক যাত্রী নিয়ে জীঁবনের ঝুঁকির মধ্যে উওাল কালাবদর নদী  পাড় করছে। ফলে যে কোন সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। বাদিং চার্জ, আয়কর ও রুট পারমিট নিয়ে  অভ্যন্তরীন  বিভিন্ন নৌ রুটে লঞ্চ চলাচল করছে। কিন্তুু অবৈধ স্পীড বোট ও ট্রলারের কোন রুট পারমিট,সার্ভে সনদ নেই অথচ তার পরেও থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে বরিশাল ভোলা নৌ রুটে চলাচল করছে  এসব যান। এসব নৌ রুটে অবৈধ স্পীড বোট ও ট্রলার চলাচল বন্ধ না হলে লঞ্চ ব্যবসা বন্ধ করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবেনা বলে জানান তিনি।  নৌ মালিক পক্ষ জানান অবৈধ স্পীড বোট ও ট্রলার চলাচল বন্ধের লক্ষ্যে লঞ্চ মালিক পক্ষের লিখিত অভিযোগের ভিওিতে গত বছর  ৭ এপ্রিল সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর মহাপরিচালক কমডোর জোবায়ের আহমদ স্বাক্ষরীত বরিশাল মেট্রোপলিটন পলিটন পুলিশ কমিশনারকে স্পীড ও ট্রলার বন্ধে অনুরোধ করে চিঠি প্রদান করেন। যার স্বারক নং- আইএস-১৫/মা.অভি.তদ/৯৯/৫৩৩৩ । এতে বলা হয়েছে নৌ চলাচল অধ্যাদেশ- ১৯৭৬ এর বিধান মতে ১৬ অশ্বশক্তির নিচে কাঠ বডির নৌযান ছাড়া সকল শ্রেনির নৌযান রেজিষ্ট্রেশন বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বরিশাল চরকাউয়া খেয়াঘাট ও ডিসি ঘাট থেকে লাহার হাট -ভেদুরিয়া নৌপথে অসংখ্য স্পীডবোট  ও ট্রলার চলাচল করছে। তাছাড়া এ সকল অরেজিষ্ট্রিকৃত ফিটনেস বিহীন  স্পীডবোট ও ট্রলার অশান্ত মৌসুমে (১৫ মার্চ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর ) অশান্ত জলরাশি দিয়ে যাএী পারাপার আইনে দৃষ্টিতে অপরাধ। তাছাড়া নৌ চলাচল বিধি  ২০০১ এর বিধান মতে “ কোন অনিŸন্ধনকৃত জাহাজ বা নৌকা বিআইডব্লিউটিএ বা বিআইডব্লিউটিসির অবতারন স্টেশন বা ১ কিলোমিটার চাইতে নিকটতম ঘাট হইতে যাএী লইতে কিংম্বা নামাতে পারবেনা।
অপরদিকে জানাগেছে বরিশাল ডিসি ঘাট ও লাহার হাট বিআইডব্লিউটিএ নৌ টার্মিনাল এলাকা  থেকে অনিবন্ধনকৃত ট্রলার ও স্পীডবোট চলাচল বন্ধের হাইকোর্টের রুলের স্থাগীতদেশ’র মেয়াদ আরও ৬ মাস গত বছর ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত বৃদ্বি করেছেন হাইকোর্ট। আর এতে বরিশাল বিআইডব্লিটিত্র যুগ্ন পরিচালক মোঃ শহিদল্লাহ স্বাক্ষরিত ১৮.৭১৫.০৫০.০২৩.২০১০/৬৬ স্বারকে লাহারহাট ভেদুরিয়া নৌ পথে অনিবন্ধনকৃত ট্রলার ও স্পীডবোট চলাচল  ৬ মাস বন্ধ রাখার জন্য বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার , বরিশাল – ভোলা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে ছিঠি প্রদান করে অনুরোধ করেছেন।
সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে বরিশাল নৌ বন্দর এলাকার ডিসি ঘাট ও লাহারহাট – ভেদুরিয়া নৌ পথে অসংখ্য স্পীডবোট এবং ট্রলার য্ত্রাী পারাপার করছে।
এ ব্যাপারে বরিশাল বন্দর কমর্মকর্তা (যুগ্ন-পরিচালক) মোঃ শহিদ উল্লাহ জানান হাইকোর্টের রিটে প্রেক্ষিতে  লাহারহাট ভেদুরিয়া নৌ পথে অনিবন্ধনকৃত ট্রলার ও স্পীডবোট চলাচল  বন্ধে পুলিশ প্রশাসনকে চিঠি প্রদান করা হয়েছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ সামসুদ্দিন জানান এখনও অফিসিয়ালভাবে নোটিশের কাগজ পায়নি । পেলে কাগজ দেখে অনিবন্ধনকৃত ট্রলার ও স্পীডবোট চলাচল বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। এবিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক মোঃ শহীদুল আলম বলেন, এই মূহুর্তে কাগজ পত্র না দেখে কিছুই বলতে পারবনা । তবে তিনি জেলা প্রশাসক ( সার্বিক ) আবু মোঃ ইউসুফের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন ।
বরিশাল ভোলা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মনিরুজ্জামান জানান অনেক দিন পূর্বে রিট হয়েছে । তবে রিটের কাগজ পেলে দেখে বলার কথা জানান তিনি। ভোলা জেলা প্রশাসক মোঃ সেলিম রেজা জানান রিটের কাগজ দেখে ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানান তিনি।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

জুলাই ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুন    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১