July 23, 2017

শেবাচিম হাসপাতাল সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নামে হরি লুটের অভিযোগ

--- ৩১ মার্চ, ২০১৪

news-barisal-today-sbmc

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্লোস সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা স্থাপনের নামে হরি লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রহস্য জনক কারনে অর্থ বরাদ্ধের আগেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি তরিঘরি করে কাজ করছে। পুরো টেন্ডার প্রক্রিয়াই পিপিআর’র আইন অমান্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে, শেবাচিম হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবসা এবং অনিয়ম দুরি করনে ভবনের অভ্যন্তরের প্রতিটি বিভাগে একটি করে ক্লোস সার্কিট ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু অর্থ বরাদ্ধ না থাকায় সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ে। এর পরেও ২০১৩ সালের মার্চ মাসে বরাদ্ধ ছাড়াই সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য দরপত্র আহ্বান করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নিয়ম অনুযায়ী ঠিকাদাররা টেন্ডারে অংশ নিলেও পরবর্তীতে অজ্ঞাত কারনে রি-টেন্ডার আহ্বান করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দ্বিতীয় দফায় একই বছর মে মাসে রিটেন্ডার অনুষ্ঠিত হয়। এর প্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার এ্যাক্টওয়েল টেকনোপলজি (বিডি) লিঃ কে ঢাকার স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে কার্যাদেশ প্রদান করেন শেবাচিম হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগ উঠেছে পিপিআর আইন উপেক্ষা করে এ্যাক্টওয়েল নামের প্রতিষ্ঠানের সাথে সক্ষতা করে সরকারের কোটি টাকারও বেশি টাকা আত্মসাতের মিশনে নেমেছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কোন একটি মহল। হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, এ্যাক্টওয়েল নামের প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনিয় মালামালের বর্তমান বাজার দরের থেকে কয়েকগুন বেশি দর দেখিয়ে টেন্ডারে অংশ নিয়েছে। কম্পিউটার, ল্যাপটপ সহ ৬৩টি আইটেমের মালামাল সরবরাহের জন্য ৪ কোটি ২ হাজার ৫শ টাকা দর দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী ঐ সব মালামালের মূল্য কয়েক গুন কম। কোম্পানিটির দেয়া দরপত্র মোতাবেক ব্যক্তিগত কম্পিউটার এর দর দিয়া হয়েছে ৫৮ হাজার টাকা করে। বাজারে বর্তমান লেটেষ্ট ভার্সনের কম্পিউটারের মূল্য রয়েছে ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা। ল্যাপটপ এর দর দেয়া হয়েছে প্রতিটি ৮৫ হাজার টাকা। কিন্তু বর্তমান বাজার দরে লেটেষ্ট ভার্সনের ল্যাপটপের মুল্য ৪৫ খেকে ৫০ হাজার টাকা। একশটি জেলার প্রিন্টার মূল্য দেয়া হয়েছে প্রতি পিস ৪৫ হাজার টাকা। স্যামসং লেজার ৬ হাজার টাকা। কিন্তু উল্লেখ করা নেই পাওয়ার সাফলাই এবং ভোল্ট। বর্তমান বাজের লেটেষ্ট লেজারের মূল্য নির্ধারন রয়েছে ৭শ থেকে ২৪শ টাকা। ১০ পিস গ্রাফিক্স এ্যাটেপটর ১০ পিস। এর প্রতিপিসের মূল দেয়া হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু বর্তশান বাজার দর ১৩শ থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা। এছাড়া এয়ার কন্ডিশন প্রতি পিসের মূল্য দেয়া হয়েছে ৯০ হাজার টাকা। এসব ছাড়াও ৬৩টি মালামালের প্রতিটিতেই একই ভাবে অতিরিক্ত দর দেয়া হয়েছে। যার সাথে বর্তমান বাজার দরের আকাশ পাতাল ব্যবধান। এর পরেও কোম্পানিটিকে কাজের ওয়ার্ক অর্ডার দেয়া হয়েছে। এটা উন্নয়ন নয়। উন্নয়নের নামে পুকুর চুরির জন্যই এমন টেন্ডারের আয়োজন বলে অভিযোগ করেন হাসপাতালের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডাঃ মুঃ কামরুল হাসান সেলিম জানান, মন্ত্রনায়ল থেকে টেন্ডার এবং কোম্পানিকে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তারাই ভালো জানেন।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

জুলাই ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুন    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১