July 23, 2017

বরিশালের ইলিশের আড়ত দখল করেছে তরমুজ

--- ৮ এপ্রিল, ২০১৪

Barisal-TORMUJ

বরিশাল নগরীর মৎস্য আড়তগুলো এখন তরমুজের দখলে। যেখানে ট্রলারে প্রতিদিন শত শত মন ইলিশ আসতো এবং বিক্রি হতো এখন সেখানে আসছে তরমুজ। ইলিশের মোকাম পরিনত হয়েছে তরমুজের মোকামে। পোর্টরোডের মৎস্য আড়তগুলো থেকে ইলিশের মতই তরমুজ ট্রাকে তুলে পাঠানো হচ্ছে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

সরকারী নিষেধাজ্ঞার কারনে বর্তমানে নদীতে ইলিশ শিকার বন্ধ রয়েছে। তাই ইলিশের সরবরাহ নেই। একই সময় তরমুজ উৎপাদন হওয়ায় কৃষক ও পাইকাররা বিক্রয় কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছে মৎস্য আড়তগুলো। কৃষি বিভাগের মতে লবনাক্ততার কারনে গলাচিপা সহ নিন্মঞ্চালে তরমুজের উৎপাদন কিছুটা কম হলেও অন্যান্য স্থানে বাম্পার ফলন হেেছ। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়ে ২ হাজার ৫’শ কোটি টাকার তরমুজের বাজার সৃষ্ঠি হবে বলে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করছেন।  লবন পানি যুক্ত জোয়ারে নিন্মঞ্চালের কিছু তরমুজ নষ্ট হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসায় ভালো ভাবেই উৎপাদিত তরমুজ বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।
কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে  চলতি বছর এ বিভাগের ৬ জেলায় ৩০ হাজার ৬২৯ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ করা হয়েছে। মোট ১৩ লাখ ১৭  হাজার ৪৭ টন উৎপাদিত তরমুজ কৃষকরা বাজারে বিক্রি করতে পারবেন। মৌসুমের শেষ পর্যন্ত কোনো প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বিপুল পরিমান তরমুজ বিক্রি করে কৃষকরা বিপুল টাকা মুনাফা অর্জন করতে পারবেন।

দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তরমুজ আবাদ হয়েছে পটুয়াখালী জেলায়। এ জেলায় ১৩ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ করা হয়েছে। এরপরই দ্বীপ জেলা ভোলার অবস্থান। এ জেলায় ১১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ করা হয়েছে। যার সিংহ ভাগই চরফ্যাশন উপজেলায় উৎপাদিত হয়েছে। এ ছাড়াও বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠী, বরিশাল  জেলায় তরমুজ আবাদ হয়েছে।

উৎপাদন ভালো হওয়ায় কৃষক ও পাইকাররা মাঠ থেকে তরমুজ ট্রলারে তুলে নগরীর পোর্টরোডস্থ মৎস্য আড়তগুলো নিয়ে আসছে। দিন-রাত সমানতালে একের পর এক ট্রলারবোঝাই করে তরমুজ আসছে। মৎস্য আড়তদাররা এ তরমুজ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকারদের কাছে বিক্রি করছেন। আবার কোনো কোনো আড়তদার রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তরমুজ বিক্রির জন্য ট্রাকযোগে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। ইলিশ মৌসুমের মতই চরম ব্যস্ততা আড়ৎ গুলোতে এখন তরমুজ নিয়ে। ঘাটের শ্রমিক থেকে পরিবহন শ্রমিক পর্যন্ত সকলেই ব্যস্ত।

মাত্র এক যুগ আগেও এ অঞ্চলে তরমুজের কোনো ফলন হতো না। নাটোর সহ উত্তরাঞ্চল থেকে আসা তরমুজ এ অঞ্চলের মানুষ ক্রয় করে খেতো। এখন প্রতি বছর তরমুজের ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষকরা ধান ও রবি শস্যের চেয়ে তরমুজ চাষে বেশি লাভবান হচ্ছেন। প্রতি হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করতে খরচ হচ্ছে ৭৫ -৮০ হাজার টাকা। প্রতি হেক্টরের উৎপাদিত তরমুজ বিক্রি করে কৃষকরা পাচ্ছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। লাভ বেশী হওয়ার  কারনে এ অঞ্চলের চাষীরা তরমুজ চাষের প্রতি ঝুকে পড়ছেন বলে কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা জানান। তেমন কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলেই তরমুজের বাম্পার ফলন ফলে এবং কৃষকরা লাভবান হন। একই সাথে তরমুজ আনা নেওয়া এবং আড়ৎ গুলোসহ পরিবহন শ্রমিকরা লাভবান হচ্ছেন। ইলিশ এর বেকার মৌসুমের ক্ষতি তারা পুষিয়ে নিচ্ছেন তরমুজের ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্য দিয়ে।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

জুলাই ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুন    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১