October 22, 2017

শেবাচিম সিসিইউ’র সবকটি এসি বিকল ॥ ভোগান্তি রোগীরা

--- ৮ এপ্রিল, ২০১৪

আর.এম. মাসুদ ॥ শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একমাত্র সিসিইউ বিভাগটিই এখন মারাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত। নানা সমস্যার মধ্যে এ বিভাগটির নয়া সমস্যা দেখা দিয়েছে এয়ার কন্ডিশন (এসি)। গত ৫ দিন ধরে এ বিভাগের ৮টি এসিই বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। এর ফলে চৈত্রের তাপদাহে প্রচন্ড গরমে আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছে এখানে চিকিৎসা নিতে আসা হৃদ রোগে আক্রান্ত রোগীরা। কবে নাগাদ এ সমস্যা থেকে রোগীরা নিস্তার পাবে সে বিষয়ে জানা নেই কারো।

তবে হাসপাতালের বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের উদাসিনতার কারনেই সিসিইউ বিভাগের রোগীদের এমন দৈনদশায় ভুগতে হচ্ছে বলে অভিযোগ এখানকার চিকিৎসক এবং নার্সদের। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পূর্ব পাশে অবস্থিত সিসিইউ বিভাগ। প্রায় ৫ বছর পূর্বে আইসিইউ ভবন হিসেবে এর পথচলা শুরু হলেও জনবল সংকটে আইসিইউ চালু করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে প্রায় আড়াই বছর পূর্বে রোগীদের দুর্ভোগ লাঘব, সুষ্ঠু পরিবেশ সহ সার্বিক দিক বিবেচনা করে সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রীর নির্দেশে আইসিইউ ভবনটিতে সিসিইউ কার্যক্রম শুরু করা হয়। কিন্তু যে লক্ষ্যে সিসিইউ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে সে লক্ষ্য এখন শুধু কাগজ আর কলমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। কেননা বর্তমানে সিসিইউ বিভাগটি নিজেই করুন দশায় ভূগছে। বিভিন্ন সমস্যা এবং নেই আর নেই’র মধ্যে দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে বিভাগটি। এর পরেও কোন ভাবে চলছিলো রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম। কিন্তু শেষ পর্যায়ে এসে বিভাগটিতে রোগীরা রোগ ভালো করতে এসে উল্টো আরো অসুস্থ হয়ে পড়ার উপক্রম ঘটেছে। কেননা এ বিভাগে থাকার মধ্যে ছিলো ৮টি বড় ধরনের এয়ার কন্ডিশন (এসি)। কিন্তু তার সবকটিই এখন বিকল অবস্থায় পড়ে আছে। সর্বশেষ গত চার দিন পূর্বে একটি এসি’র বিস্ফোরন ঘটে দুটি এসি বিকল হয়ে পড়েছে। কিন্তু এগুলো মেরামতের নেই তেমন কোনো উদ্যোগ। এ বিষয়ে অভিযোগ দেয়া হলেও কর্নপাত হচ্ছে না গণ:পূর্ত বিভাগের ইলেকট্রিক শাখার কর্তা ব্যক্তিদের। এর ফলে রাত দিন ২৪ ঘন্টাই দুর্ভোগে সময় পাড় করতে হচ্ছে রোগী, চিকিৎসক ও নার্সদের। রোগীর স্বজনরা জানায়, চৈত্রের প্রচন্ত তাপদাহে ভবনের ছাদ প্রচন্ড ভাবে গরম হয়ে থাকে। এ জন্য প্রচন্ড গরম সহ্য করতে হয় রোগীদের। তারা বলেন, উপরে বৈদ্যুতিক পাখা ঘুরলেও তাতে বাতাস হচ্ছে না। তার মধ্যে আবার এ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ আব্দুল মান্নানের খামখেয়ালীর কারণে জানালাগুলোও খোলা যাচ্ছে না।

এমন অবস্থায় হাত পাখা ছাড়া বিকল্প কোন ব্যবস্থা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। চার পাশ থেকে আটকানো রুমের মধ্যে চিকিৎসা নিতে এসে অসহ্য গরমে রোগীরা আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলে জানায় স্বজনরা। সিসিইউ বিভাগের ইনচার্জ এর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ৮টি এসির মধ্যে ৬ এসি অনেক আগে থেকেই বিকল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সর্বশেষ গত চার দিন পূর্বে বাকি দুটিও বিকল হয়। তিনি বলেন, এসি মেরামতের জন্য বিভাগের প্রধান চিকিৎসক এর সুপারিশসহ কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সংস্কারের আলামত পাচ্ছি না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গনপূর্ত বিভাগে ইলেকট্রিক শাখাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গনপূর্তের বিদ্যুৎ (ইএম) বিভাগের এসও সঞ্জিদ দাস বলেন, দুটি এসি’র তার পুড়ে গেছে। এছাড়াও ঐদুটি সহ অন্যগুলোর গ্যাস শেষ হয়ে গেছে। এজন্য এসি চালালেও শিতল হচ্ছে না। তাই সবকটিই বন্ধ রাখা হয়েছে। এসির গ্যাস সরবরাহের জন্য ঢাকায় চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ দিলে এসিগুলো পুনরায় সচল করে তোলা হবে বলেন তিনি।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

অক্টোবর ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« সেপ্টেম্বর    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১