July 27, 2017

ভোলাবাসীর প্রশ্ন ॥ মিমের আত্মহত্যা নাকি হত্যা!

--- ৯ এপ্রিল, ২০১৪

বরিশাল টু- ডে ॥  বরিশাল পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটের শিক্ষকের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ইসরাফিল ওরফে মিম কি সত্যি সত্যি আত্মহত্যা করেছে নাকি তাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ প্রশ্ন ভোলার স্থানীয় বাসিন্দাদের। বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ইসরাফিল মিম মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজ আবাসস্থল ভাড়াটিয়া মেস এর কক্ষে মারা যায়। প্রাথমিক ভাবে শিক্ষকদের অব্যাহত হুমকি ও শেষ মুহুর্তে প্রেমিকা সাজরিন প্রেমের ইতি টানার কথা জানিয়ে বিদায় নিলে মিম পৃথিবী থেকেই চিরতরে বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আতœহত্যা করে বলে জানানো হয়েছে।

কিন্ত মিম এর জন্মস্থান ভোলা শহরের কালিবাড়ী রোডে এ খবর পৌছার পর পরিবারের পক্ষ থেকে ও স্থানীয় শহরবাসী ক্ষুদ্ধ কন্ঠে জানান- মিম আতœহত্যা করেনি। তাকে পরিকল্পিত ভাবে শিক্ষকরা হত্যা করেছে।

গত রবিবার ক্লাস চলাকালীন সময় ইসরাফিল তার প্রেমিকা সাজরিনের সাথে কথায় বলায় শিক্ষক শফিউল ইসলাম তাকে গালমন্দ করেন। ইসরাফিল  উত্তেজিত হয়ে শিক্ষককে আপত্তিকর কথা বলে। ছাত্র- শিক্ষকের বাদানুবাদে সেখানে পুলিশ হাজির হয়ে ছাত্রলীগ কর্মী ইসরাফিলকে আটক কর। অধ্যক্ষ মীর মোশারেফ হোসেন আপোষ নিস্পত্তি করে তাকে পুলিশের কাছ থেকে মুক্ত করেন।  কিন্ত কয়েকজন শিক্ষক গতকাল মঙ্গলবার শফিউল ইসলামের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে মানবন্ধনের আয়োজন করে ইসরাফিলের বিচার দাবী করেন। বিষয়টি অবগত করা হয় মিম এর বাবা-মাকে।  শফিউল তার সহকর্মী শিক্ষকরা অব্যাহত হুমকি দিয়ে আসছিল মিম ও তার সহপাঠীদের । শিক্ষার্থীরা এসে শিক্ষকদের মানববন্ধনে যোগ না দিলে সকলকে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে শিক্ষা জীবনের ১২ টা বাজিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।  এমনকি তার ভালবাসার প্রিয় মানুষটি সাজরিন নিজেও মুখ ঘুরিয়ে  নিয়ে প্রেমিক মিমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। সে প্রেমিক ইসরাফিল মিমকে জানিয়ে দেয় ভালবাসার সম্পর্কটি আর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। শুধু তাই নয়, কম্পিউটার বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী সাজরিন তার প্রেমিক মিমের বিচারের দাবীতে শিক্ষকদের মাবন্ধনে যোগ দেয় বলে ক্যাম্পাস সূত্র জানায়। তবে মিম এর সহপাঠীরা জানিয়েছে শিক্ষকদের অব্যাহত হুমকির মুখেই সাজরিন তার প্রেমিকের সাথে এমন আচরন করে মানবন্ধনে যোগ দেয়। নানামুখী চাপে দিশেহারা হয়ে পরে মিম। একদিকে শিক্ষক ধর্মঘট, শিক্ষক আন্দোলন ও তার কারনে সহপাঠীরা শিক্ষকদের হুমকির মুখে পড়ায় দিশেহারা হয়ে পড়ে মিম। এক পর্যায়ে সে মান অভিমানে মেস এর নিজ কক্ষে গলায় ফাস দিয়ে আতœহত্যা করে। কোতয়ালী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মতিয়ার রহমান জানান, লাশ ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে মিম আদৌ আতœহত্যা করেছে নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

জুলাই ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুন    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১