September 25, 2017

ধারন ক্ষমতার ৫ গুন বেশি যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো বরিশাল নৌ-বন্দর ত্যাগ

--- ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

Mm

কাজী রনী ॥
ঈদ শেষে এবার কর্মস্থলে ফেরার পথে যুদ্ধে নেমেছে দক্ষিণাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ। ঈদের ছুটি শেষে সরকারী- বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরতরা ফিরতে শুরু করেছে। গতকাল দুপুর থেকেই ঈদ স্পেশাল সার্ভিসের নৌযানগুলোতে যাত্রীদের ভীড় বাড়তে শুরু করে। ধারন ক্ষমতার ৪/৫ গুন বেশি যাত্রী নিয়ে সরকারী-বেসরকারী একের পর এক নৌ-যান যাত্রী নিয়ে রওয়ানা হয়ে গেছে। নৌ-পথের পাশাপাশি সড়ক পথেও যাত্রীদের চাপ ছিলো উপচে পড়া। বিলাসবহুল লঞ্চের তকমা লাগিয়ে ধারন ক্ষমতার ৫ থেকে ৭ গুন যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন। নৌ-পথ সুরক্ষিত মনে করায় দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা এসব লঞ্চের কাউন্টারগুলোতে ধর্না দিয়ে কেউ কেউ টিকেট পেলেও অনেকেরই যেতে হচ্ছে ডেকে কিংবা ছাদে। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঠাসাঠাসি করে গন্তব্যে পৌছলেও ভাড়া গুনতে হচ্ছে স্বাভাবিকের চেয়ে বাড়তি। আবার যারা টিকেট পেয়েছেন তাদেরও রয়েছেন হরেক অভিযোগ।
বেসরকারী লঞ্চ মালিকরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ঈদে বাড়তি চাপ সামাল দিতে কিছুটা বেগ পেতে হয়। তাই কোনো কোনো ক্ষেত্রে সামান্য অসুবিধা হতে পারে।
গতকাল রাত ৮টার দিকে বরিশাল নৌ-বন্দর থেকে সর্বশেষ দেশান্তর লঞ্চটি যাত্রী বোঝাই করে ছেড়ে যায়। গতকাল ঢাকামাগী দেড় ডজনেরও বেশি লঞ্চ ধারন ক্ষমতার ৫/৬গুন বেশি যাত্রী নিয়ে ছেড়ে গেলেও সর্বশেষ লঞ্চেও ঠাঁই হয়নি যাত্রীদের। দেশান্তর যাত্রী বোঝাই করে ছেড়ে যাবার সময় পন্টুনে থাকা কয়েকশ যাত্রী হুমড়ি খেয়ে পড়ে। এসময় নৌ-পুলিশ বাঁধা দিয়ে দেশান্তরকে ছেড়ে যেতে বাধ্য করে। এসময় পন্টুনে থাকা কয়েকশন যাত্রী গতকাল আর কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিতে পারেননি। তারা বিভিন্ন হোটেলে কিংবা পন্টুনে রাত কাটিয়ে আজ রওয়ানা দিবেন বলে জানান।
গতকাল সকাল থেকেই এখানকার নৌ-বন্দর টার্মিনালে ঢাকাগামী যাত্রীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। একই চিত্র ছিলো বাস টার্মিনালগুলোর। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হওয়ার সাথে সাথেই নৌ-বন্দরে যাত্রীদের ঢল নামে। ঢাকায় যাত্রী নামিয়ে দিয়ে পুনরায় যাত্রী পরিবহনের জন্য ফিরে আসা লঞ্চগুলো এখানকার নৌ-বন্দরে নোঙ্গর করার সাথে সাথেই যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে পড়ে। অনেকেই লঞ্চের কেবিনের টিকেট না পেয়ে স্ত্রী-পুত্র পরিজন নিয়ে ডেকে স্থান নিতে যুদ্ধে সামিল হয়। ডেকের স্থান পেতেও যাত্রীদের বেশ ভালো টাকা গুনতে হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগ’র উপ-পরিচালক আজমল হুদা সরকার মিঠু জানান, অতিরিক্ত যাত্রী বহন রোধকল্পে জেলা প্রশাসন থেকে দু’জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নিয়োগ করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটি’র নৌ-নিরাপত্তা বিভাগের সকল কর্মকর্তার ঈদের ছুটি বাতিল করে সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। তিনি বলেন ঈদুল আযহায় নতুন নৌযান সুন্দরবন-১১, তাসরীফ-৩, তাসরীফ-৪, এ্যাডভেঞ্জার -১ যুক্ত হওয়ায় যাত্রীরা ঈদুল ফিতরের চেয়ে স্বাচ্ছন্দে যেতে পারছেন।
গতকাল সুন্দরবন ৮-১১, সুরভী-৭- ৯, কীর্তনখোলা-১ ও ২, টিপু-৭, পারাবত- ৯, ১১ও ১২ এবং তাসরীফ-১, ৩ ও ৪ এ্যাডভেঞ্জার-১, দেশান্তর, রাজহংস, কালামখান, গ্রীন লাইন সহ ১৯টি নৌযান বরিশাল-ঢাকা রুটে সরাসরি যাত্রী নিয়ে নৌ-বন্দর ত্যাগ করেছে। এছাড়াও কাউখালী, ঝালকাঠী, পটুয়াখালী সহ বিভিন্ন রুটের ভায়া আরো ৭টি লঞ্চ যাত্রী পরিবহন করেছে।
নৌ পুলিশ থানার সেকেন্ড অফিসার সফিকুল ইসলাম বলেন লোড সাইন অতিক্রম করার আগেই লঞ্চগুলোকে নৌ-বন্দর ত্যাগ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের কারনে লঞ্চের টাইম-টেবিল অনুযায়ী যাত্রী পরিবহনের জন্য নির্দিষ্ট সময় দেয়া সম্ভব হয়নি।
পথে পথে ভোগান্তি
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বিভিন্নস্থানে খানা খন্দ থাকায় রহমতপুর, উজিরপুর, বানারীপাড়া, স্বরূপকাঠী, আগৈলঝাড়া, গৌরনদী থেকে নৌ-বন্দরে আসতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এছাড়াও রূপাতলী বাস টার্মিনাল ও বাবুগঞ্জ থেকে আসতে লাকুটিয়া সড়কের সংস্কার কাজ চলছে শম্ভুক গতিতে। বৃষ্টিতে এসব সড়ক কাদা পানিতে একাকার হয়ে রয়েছে। কোনো কোনো সড়কে বিটুমিন উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রূপাতালী বাস টার্মিনাল থেকে দপদপিয়া, নলছিটি, কুমারখালী, বাকেরগঞ্জ, ষাটপাকিয়া সহ প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসতে সড়ক – মহাসড়কে পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে। রাস্তা অচল থাকায় কোরবানীতে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে আসা মানুষকে নৌ-বন্দরে পৌছতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। সড়ক-মহাসড়কের ঝক্কি-ঝামেলা পার হয়ে নগরীতে এসেও স্বস্তি নেই যাত্রীদের। নথুল্লাবাদ, রূপাতলী, কিংবা নতুন বাজার থেকে নৌ-বন্দরে পৌছতে গণ পরিবহনে বাড়তি টাকার পাশাপাশি বেহাল সড়কে বাড়তি ভোগান্তিও পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

সেপ্টেম্বর ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০